Published : 12 Mar 2026, 09:37 PM
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব যুক্ত করার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
এর মধ্য দিয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে মনে করছে ছাত্র ইউনিয়ন।
বৃহস্প্রতিবার বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন একাংশের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ বিবৃতিতে বলেন, "আমরা লক্ষ্য করলাম, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন না করে সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করা হলো। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দাবি করে জনগণের ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার সম্মতি দিল, যা জনগণের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণা।
“এর মধ্য দিয়ে বিএনপি মূলত তাদের যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গী করে চলার যে পুরানো নীতি, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটাল। আমরা দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মুক্তিযুদ্ধ এই জাতির, এই ভূখণ্ডের সবচেয়ে গৌরবান্বিত অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধকে হেয় প্রতিপন্ন করা হলে জনগণই তার সমুচিত জবাব দিবে।"
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব ওঠে।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান। তিনি বিএনপির সাবেক এমপি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও যুক্ত করে নেন। সংসদে আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
এ ঘটনায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, “আজ শোক প্রস্তাব গ্রহণকালে সরকার দলীয় চিফ হুইপ গণহত্যার সহযোগী স্বীকৃত রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণের কথা বলেন। পরবর্তীতে আমরা হতবাক হয়ে দেখলাম, সংসদের স্পিকার তা গ্রহণ করলেন।
“বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম থেকে উদ্ভূত গণচেতনাকে পদদলিত করার এক কলঙ্কময় নজীর স্থাপিত হলো আজ। দেশের আপামর ছাত্রসমাজ ধিক্কার জানায় এই ঘটনার। ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ গত ৫৪ বছরে এই ভূখণ্ডে সংঘটিত গণ আন্দোলনের চেতনাসমূহকে করা হয়েছে পদদলিত আর বিপরীতে মঞ্চায়িত হয়েছে গণশত্রুকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার নাটক। মাঝখানে বারংবারই প্রতারণার শিকার হয়েছে জনগণ”।
বিবৃতিতে বলা হয়, “৫ অগাস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যাশা ছিল এই নাটকের অবসান ঘটবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার গণহত্যার সহযোগী সংগঠন জামায়াতকে পুনর্বাসনের মধ্য দিয়েই ইতোমধ্যেই জনগণের আওয়ামী সন্ত্রাস বিরোধী লড়াইয়ের নৈতিক ভিত্তি ধ্বসিয়ে দিয়েছে।
“সর্বশেষ আজকের ঘটনার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদও এই আভাস দিল-আমরা গণরায়-গণআকাঙ্খা মানতে রাজী নই। যা আগামী দিনের জন্য অশনিসংকেত”।
অনতিবিলম্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শোক প্রস্তাব থেকে রাজাকরদের নাম ‘এক্সপাঞ্জ’ দাবি জানিয়েছেন তারা।