Published : 13 Apr 2026, 01:35 PM
ঢাকার শ্যামলীতে কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি’ (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের চার সহযোগীকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. ছাব্বির আহমেদ সোমবার রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
আসামিরা হলেন- ফারুক হোসেন সুমন,মো. লিটন মিয়া, মো. ফালান মিয়া ও মো. রুবেল।
চাঁদাবাজির ঘটনায় শনিবার সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন৷ এতে সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। মামলার পর মঈনসহ সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বাকিরা হলেন- মো. লিটন মিয়া, মো. সুমন, মো. শাওন, স্বপন কাজী, মো ফালান ও রুবেল।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, মঈনকে নড়াইলের কালিয়ার দাদনতলা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, “ওই গ্রামে মঈন তার ফুপুর বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। পরে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হবে।”
এছাড়া লিটন ও সুমনকে ঢাকার শেরেবাংলা গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। এছাড়া শাওন, স্বপন, ফালান ও রুবেলকে পৃথক অভিযান চালিয় গেপ্তার করেছে র্যাব-৪।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, “সিকেডি হাসপাতালের কাছে মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ হানিফকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে তার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খুলে দিলে মঈন তার স্ত্রীকে বলেন, চাঁদাবাবদ এখনই তাদের ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে তাদের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন আসামিরা। হানিফের স্ত্রী চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। এ সময় হানিফ হাসপাতালে থাকা তার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) বাসায় আসতে ফোন করেন। পরে তার ভাই মনির বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকেন।
“এক পর্যায়ে তারা প্রায় ৫০-৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এর ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।”
পরে শেরেবাংলা নগর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
স্বল্প খরচে কিডনি চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপনের জন্য অধ্যাপক কামরুলের পরিচিতি রয়েছে। গত শুক্রবার তা সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে যুবদল পরিচয়ে চাঁদা দাবির বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে। পর যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধি দল রাত দেড়টার দিকে শ্যামলীর ওই হাসপাতালে যান।
তারা অধ্যাপক কামরুল ইসলামের কাছে ঘটনা জানতে চান, তাকে বিষয়টি সুরাহার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
আরও পড়ুন:
কিডনি চিকিৎসক কামরুলের হাসপাতালে চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতাসহ