Published : 18 Aug 2025, 02:33 PM
জুলাই আন্দোলনের মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে সিআইডি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্রিমিনাল ইনভেস্টেগশন ডিপার্টমেন্ট-সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে এ আবেদন করেন।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হবে বলে যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শরীফুজ্জামান জানিয়েছেন।
নাসির উদ্দিন সাথীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। শুনানির সময় তাকে এজলাসে তোলা হবে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে জানা গেছে মামলার এজাহারনামীয় ১ নং আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট, আজ্ঞাবহ হয়ে মাই টিভির দায়িত্বশীল চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়ে মো. নাসির উদ্দিন সাথী উস্কানিমূলক বক্তব্য ও প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
তার এমন উস্কানিমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী, রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নির্বিচারে গুলিবর্ষণে আসাদুল হক বাবু মারা যান বলে তদন্তে এসেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, মাই টিভির চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদের নাসির উদ্দিন সাথী সাংবাদিকতার পেশায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ও দায়িত্বে থেকেও তার অনৈতিক প্রভাব ও প্রতিপত্তিতে দলীয় এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সাবেক সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে বিরোধী দলমতকে প্রত্যাখান করেছে। প্রকৃত ঘটনা, অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য ও রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।
রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রোববার নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে করে।
বাবু হত্যার মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ অগাস্টে যাত্রাবাড়ীর পাকা রাস্তার ওপর আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। সেদিন দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ অগাস্টে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় নাসির উদ্দিন ২২ নাম্বার এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নাম্বার আসামি।