বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচার কাজ দেখলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি

“বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে আমাদের নিয়ে আসায় আমরা সম্মানিত বোধ করছি,” বলেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Feb 2024, 12:40 PM
Updated : 25 Feb 2024, 12:40 PM

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে বসে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকাজ পর্যবেক্ষণ করলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড়। 

রোববার তিনি প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে বসে পর্যবেক্ষণ করেন। বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের সঙ্গে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস ও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তও ছিলেন এ সময়। 

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সঙ্গে এদিন এজলাসে ছিলেন আপিল বিভাগে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।

বিচারকক্ষে আসন গ্রহণের পর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, “আমাদের জন্য আজকের দিনটি বিশেষ। ভারতের প্রধান বিচারপতি ও দেশটির দুজন বিচারপতি উপস্থিত আছেন।” 

আদালতের কাজ শুরু হলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকির ভারতের প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের অভিনন্দন জানান। 

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “ভারতের প্রধান বিচারপতি ও দুজন বিচারপতির উপস্থিতি ইতিহাসের অংশ।” 

এরপর কার্যতালিকা অনুযায়ী বিচারকাজ শুরু হয়। বিচারের কয়েকটি আদেশ শুনে বিচারপতি ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড় বলেন, তিনিও এ বিষয়ে একই আদেশ দিতেন। 

আদালতকক্ষ থেকে বিদায় নেওয়ার আগে ভারতের প্রধান বিচারপতি বলেন, “বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে আমাদের নিয়ে আসায় আমরা সম্মানিত বোধ করছি। ভারত ও বাংলাদেশের বিচারিক সংস্কৃতি একই ধরনের।“

তিনি এদেশের বিচারপতি ও আইনজীবীদের ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আমন্ত্রণ জানান। 

‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাউথ এশিয়ান কনস্টিটিউশনাল কোর্টস ইন দ্য টুয়েন্টি-র্ফাস্ট সেঞ্চুরি: লেসন্স ফ্রম বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া‘ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে আসেন ভারতের প্রধান বিচারপতি। 

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ৫০তম প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড় ১৯৫৯ সালের ১১ নভেম্বর মুম্বইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা যশবন্ত বিষ্ণু চন্দ্রচূড়ও ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। 

মুম্বাইয়ের ক্যাথিড্রাল অ্যান্ড জন কোনন স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর বিচারপতি চন্দ্রচূড় দিল্লির সেন্ট কলম্বাস স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৭৯ সালে দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে গণিত এবং অর্থনীতিতে তিনি স্নাতক ডিগ্রি পান। 

১৯৮২ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক নেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর করেন। হার্ভার্ডে তিনি আইন নিয়ে গবেষণাও করেন।