Published : 21 Dec 2025, 06:43 PM
সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে নির্বাচনকে যারা বিঘ্নিত করতে চায় তাদের চিহ্নিত করার কথাও বলেছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটি।
তবে নির্বাচনি পরিবেশকে ব্যাহত করে এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে যৌথবাহিনীর অভিযান আবার শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন। বৈঠক শেষে বিফ্রিংয়ে ইসির তরফে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আয়োজনে তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে এটি ইসির দ্বিতীয় বৈঠক।
এদিন সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিকালের সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এদিন বেলা ১২টায় তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনাররা।
পরে পৌনে ৩টায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভাগ, বাহিনী ও সংস্থা প্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে ইসি।
এ দুই বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় আইনশৃঙ্খলার সার্বিক বিষয় নিয়ে ব্রিফিং করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, “সার্বিকভাবে যদি বলি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই আছে। যারা নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে চায়, আন্ডারমাইন করতে চায় আমরা এগুলো সব চিহ্নিত করেছি। জনমনে যাতে স্বস্তি ফেরত আসে, মানুষ যেন আশ্বস্ত হয় সে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এবং ঘটানোর দুঃসাহস না দেখায় তারা যেন পালাতে না পারে সেজন্য গোয়ন্দা সংস্থাসহ বাহিনীগুলোকে সচেতন থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালন সন্তোষজনক হলেও কিছু কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। এরইমধ্যে শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড ভোটের পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর থেকে যে সময়টা পার করেছি, সেদিক থেকে একটা বড় ঘটনা ঘটে গেছে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড। যে কারণে ব্যাপারটা এত বেশি ওভারপাওয়ারিং ছিল, পুরো জাতি আমরা হতবাক হয়ে গেছি। এটাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বিকভাবে একটা প্রভাব ফেলেছে।”
তিনি বলেন, “যেটা, একটা ভালো লক্ষণ। একাধিক দলের মাঝে ঝুটঝামেলা আছে। সার্বিকভাবে যদি বলি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই আছে।”
ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
“যারা নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে চায়, আন্ডারমাইন করতে চায়; তাদের টার্গেট কিন্তু মূলত শহর এলাকা। তারা খুব সংগঠিতভাবে লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে সম্ভবত কর্মকাণ্ড করছে। যাতে করে এটার প্রভাব জনমনে শঙ্কাটা ছড়িয়ে পড়ে। আমরা এগুলো সব চিহ্নিত করেছি। জনমনে যাতে স্বস্তি ফেরত আসে, মানুষ যেন আশ্বস্ত হয়, দলগুলো যাতে যথাযথভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারেন, নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী সব কাজ যেন নির্বিঘ্ন হতে পারে সে নির্দেশনা দিয়েছি।”
চোরাগোপ্তা হামলার বিষয়েও সতর্ক ও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তৎপর হওয়ার জন্য বলেছে ইসি।
সানাউল্লাহ বলেন, চোরাগোপ্তা হামলা হল যারা হেরে যায় তাদের একটা কৌশল। এগুলোকে প্রতিহত করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেগুলো নিতে হবে এবং তারপরে কেউ এগুলো ঘটনোর দুঃসাহস না দেখায় তারা যেন পালাতে না পারে সেজন্য সচেষ্ট হওয়ার কথা বলা হয়েছে। গোয়ন্দা সংস্থাসহ বাহিনীগুলোকে সচেতন করা হয়েছে।
যারা সমর্থক ও বন্ধু সেজে পাশে আসতে চায় তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে দল ও প্রার্থীকে অনুরোধ করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রথমবারের মত তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ইসি
বিফ্রিংয়ে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, প্রথমবারের মত তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করা হয়েছে। পরে বাকি সব বাহিনীর প্রধানসহ তিনি বাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, উপপ্রধানরাসহ বৈঠক হয়েছে।
এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক পরিপত্র জারি করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে এদিনের বৈঠকে। প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনার পাশাপাশি অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে এ ধরনের কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। এবং বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড নিরুৎসাহিত করতে এবং প্রয়োজনে বাধা দিতে যা করা প্রয়োজন তা তারা করবেন।”
তিন বাহিনী প্রধান বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছে কিনা বা তাদের থেকে কিছু জানতে চেয়েছেন কি না, প্রশ্ন রাখেন সাংবাদিকরা।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “তিন বাহিনী প্রধানের সাথে আলোচনায় তারা আমাদেরকে সমন্বিতভাবে তাদের প্রস্তুতির ব্যাপারে জানিয়েছেন। যে একটা সুষ্ঠ সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব প্রয়োজন তা তারা নিয়ে রেখেছেন এবং যত সদস্য মোতায়েন যেভাবে করা দরকার সেটা তারা করতে যাচ্ছেন।”
তিনি জানান, সেনাবাহিনীর এক লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে, যার এক তৃতীয়াংশ এখন মাঠে আছে। বাকিদের এখন থেকে ধীরে ধীরে মোতায়েন করা হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই শুধু শেষ পাঁচ দিনের জন্য না, তারও আগে এক লাখ সদস্য মাঠে মোতায়েন হয়ে যাবে। তারা যেটা আশ্বস্ত করেছেন, মাঠ পর্যায়ে সমন্বিতভাবে তারা কাজ করছেন এবং পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েই কাজ করছেন।
যৌথ বাহিনীর অভিযান চালুর নির্দেশ
ভোটের পরিবেশ বিঘ্ন করে এমন ধরনের অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর জন্য নির্দেশনা রয়েছে ইসির। শিগগির গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আলাদা বৈঠকের কথা রয়েছে।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে আগে থেকে যতটুক তথ্য জানা দরকার ছিল বা সেটা কেন পারা গেল না, তা বৈঠকে জানতে চাওয়া হয় বলে তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, “সেটা নিরুপণের নিরিখে ভবিষ্যতে এই ধরনের যেকোন ধরনের সম্ভাবনা নাকচ করতে বা কমাতে এই ধরনের প্রবণতা রোধ করতে যা যা ধরনের কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া দরকার তারা যেন সেগুলো নেন আইনের মধ্যে থেকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এখন থেকে মাঠ পর্যায়ে যৌথবাহিনীর অভিযান আবার চালুর নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।
সানাউল্লাহ বলেন, “তৃতীয় বিষয় যেটা আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যৌথবাহিনীর অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটারদের মাঝে প্রার্থীদের মাঝে, দলগুলোর মাঝে একটা আস্থার পরিবেশ তৈরি করার।”
এলাকাভিত্তিক চেক পয়েন্টে তল্লাশির ওপর গুরুত্ব ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে জোর দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিশেষ করে যেসব এলাকায় অস্ত্রের আনাগোনা আছে মর্মে জানা যায় সেসব এলাকায়; রিমোট এলাকায় অধিকতর খবরদারি ইত্যাদির ব্যাপারে বলা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “জেলায় যে সেল আছে সেই সেলগুলোকে, অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে বিশেষ জোর দিয়েছি, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ব্যাপারে বিশেষভাবে জোর দিয়েছি যাতে এগুলো না হয়। সন্ত্রাসীদেরকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা ম্যাজিস্ট্রেসি ব্যাপারে জোর দিয়েছি। ম্যাজিস্ট্রেট সমন্বিতভাবে কাজ করার ব্যাপারে জোর দিয়েছি।”
সানাউল্লাহ বলেন, কমিটিগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করা, স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ব্যাপারগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাহিনীগুলো স্ব স্ব নেতৃত্বে কাজ করবে। কিন্তু সমন্বয়টা হবে সমন্বয় সেলের মাধ্যমে। আর নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটা থাকবে হচ্ছে অভিযান অনুযায়ী।
প্রার্থীর নিরাপত্তায় ব্যবস্থা
সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়েও পুলিশি নিরাপত্তার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে ইসিকে।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী হিসেবে যাদেরকে মনোনয়ন দিচ্ছেন বা স্বতন্ত্র হিসেবে যারা প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত হয়েছি যে পুলিশ থেকে ইতিমধ্যেই একটা প্রোটোকল দাঁড় করানো হয়েছে এবং সেই প্রোটোকল অনুযায়ী যারা যারা নিরাপত্তা চাচ্ছেন সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
তবে এর বাইরেও যদি কেউ নিরাপত্তা ঘাটতি অনুভব করেন, কোনো সংবেদনশীলতা অনুভব করেন তারা পুলিশের কাছে চাইলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালনের উদ্যোগে সবার সহায়তায় নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে নজর ইসির
তফসিল ঘোষণার পর থেকে নানা জায়গায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ভোটের সম্পৃক্ততা না থাকলেও পরিবেশে নানাভাবে প্রভাব পড়ে বলে মনে করে ইসি।
সানাউল্লাহ বলেন, “আমরা জানতে চেয়েছিলাম যে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু জায়গাতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, প্রত্যক্ষ-পরোভাবে নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে কি না? বলার অপেক্ষা রাখে না যে কিছুটা হলেও তো এটা নির্বাচনের পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলে।”
এগুলো নিয়ে কথা বলতে ব্যস্ত থাকায় নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
“তবে আমাদেরকে প্রাথমিকভাবে যে মূল্যায়ন জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা থেকে যে এইসব কর্মকাণ্ডের সাথে মূলধারার কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো সম্পৃক্ততা এখনো পাওয়া যায়নি। তবুও যারা এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত আছে, তারা যে এনটিটি’র হোক না কেন, ছোট বা বড় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে কঠোরভাবে বলা হয়েছে।”
তিনি জানান, ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের পোস্টাল ভোটের নিবন্ধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমে হামলা নিয়ে উদ্বেগ ইসির
তফসিল ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে পুড়িয়ে মারাসহ কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় সাংবাদিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন অবস্থায় ভোটে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চান সাংবাদিকরা।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “এ প্রশ্নগুলো আমরাও জানতে চেয়েছি বিভিন্ন বাহিনীর কাছ থেকে। এগুলো নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। আপনারা যেসব বিষয়ে উদ্বিগ্ন, আমরাও একইভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ এটার সঙ্গে নির্বাচনি পরিবেশের সম্পৃক্ততা আছে। তফসিল ঘোষণার পর যাই হোক না কেন, সেটার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রভাব নির্বাচনের পরিবেশে উপর পড়ে। আপনারা আমাদের অংশীজন ও পার্টনার। আপনারা যদি নিরাপদ বোধ না করেন, তাহলে দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে?”
তিনি বলেন, “একটি জাতীয় শোকের সময়, মানুষের আবেগ ও ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে স্বার্থান্বেষী একটি দুষ্টচক্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ওভারপাওয়ার করে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।
“এই সুযোগ আর দেওয়া হবে না–মেসেজ ইজ ভেরি ক্লিয়ার।”
উৎসব ফিরে আসার আশা
এক প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, অগাস্টের পর মানবিক পুলিশিংয়ের নির্দেশনার সুযোগ কেউ কেউ অপব্যবহার করেছে।
“আমরা ইসির পক্ষ থেকে কঠোরভাবে বাহিনী ও সংস্থাগুলোকে বলেছি, আমরা মানবিক হব, যারা মানবিক আচরণ করবে তাদের প্রতি; কিন্তু যারা দস্যুতা করতে চায়, ভাঙচুর করতে চায়, নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়- তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। মেসেজ ইজ ভেরি ক্লিয়ার।”
ভোটের উৎসবের পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করে নির্বাচন কমিশন।
এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “বড় কোনো উৎসবের সময় দুর্ঘটনা ঘটে গেলে কি উৎসবের আমেজ ব্যহত হয় না? আমাদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড আমাদের শোকাহত করেছে। এখন এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগোতে হবে। যারা উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নি করতে চায়, তারা ব্যর্থ হবে। উৎসবের পরিবেশ ফিরে আসবে।”