Published : 17 Aug 2025, 11:48 PM
ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রোববার রাত পৌনে ১২টার কিছু আগে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ল্যাব এইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফারুক আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আহমেদ রফিককে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।
“ওনার প্রেসার এবং হার্ট রেট একটু বেশি। শরীর খুবই দুর্বল। তার মধ্যে সচেতনতার মাত্রা একটু কম দেখা যাচ্ছে, যা বয়স বা শরীরে ইলেকট্রোলাইটের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে হতে পারে। তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ওনাকে অধ্যাপক ডা. নূর মোহাম্মদ এবং অধ্যাপক ডা. সোহরাব উজ জামান দেখছেন।”
এর আগে তার গাড়ির চালক কালাম রাত ১১টা ১০ মিনিটে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, স্যারের অবস্থা একটু খারাপ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাকে দেখভালও করেন গাড়ির চালক কালাম।
৯৬ বছর বয়সী আহমদ রফিক বেশ কিছুদিন থেকে অসুস্থ। নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। মেরুদণ্ডে চিড় নিয়ে অনেকটাই অচল, ঘরের বাইরে কোথাও তেমন যান না।
বাঙালির বড় অর্জন ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওই সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আহমদ রফিকের নাম।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল বাঙালি, তার পথ ধরে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসে স্বাধীনতা।
ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সেই দিনগুলোতে ঢাকা মেডিকেলের তৃতীয়বর্ষের ছাত্র ছিলেন আহমদ রফিক। ফজলুল হক হল, ঢাকা হল ও মিটফোর্ডের ছাত্রদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলার কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি সভা-সমাবেশ মিছিলে ছিলেন নিয়মিত। ১৯৫৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আন্দোলনকারী ছাত্রদের মাঝে একমাত্র তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়। ১৯৫৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশ্যে এসে বেরিয়ে পড়াশোনায় ফেরেন আহমদ রফিক।
পরে এমবিবিএস ডিগ্রি নিলেও চিকিৎসকের পেশায় যাননি তিনি। ১৯৫৮ সালে তার প্রথম প্রবন্ধের বই ‘শিল্প সংস্কৃতি জীবন’ প্রকাশ হয়। তারপর লেখালেখিতেই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণকারী নবতিপর এই লেখক পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, রবীন্দ্রত্ত্বাচার্য উপাধিসহ অনেক সম্মাননা।