Published : 20 Sep 2025, 12:01 AM
অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের পর বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলায় সাজা খাটা মুশফিক উদ্দীন টগরের (৫০) বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
র্যাব-৩ এর ডিএডি (কোম্পানি কমান্ডার) মো. খালেকুজ্জামান শুক্রবার বিকালে মামলা করেন বলে লালবাগ থানার এসআই মতিয়ার রহমান বুলবুল জানিয়েছেন।
ঢাকার আজিমপুর এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার বিকালে টগরকে গ্রেপ্তারের করা পর র্যাব বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকা হতে অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিভিন্ন মানুষকে সরবরাহ করে আসছিলেন তিনি।
বুয়েটের সনি হত্যা মামলায় সাজাভোগের পর তিনি ২০২০ সালের ২০ অগাস্ট কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান টগর। এরপর থেকে অস্ত্রের কারবার করে আসছিলেন বলে র্যাবের ভাষ্য।
তার বিরুদ্ধে মামলায় র্যাব বলেছে, আজিমপুরের চায়না বিল্ডিং গলির একটি বাসায় মাদক বিক্রির খবরে র্যাব সেখানে যায়। তিন রুমের একটি ফ্ল্যাটে ছিলেন টগর। পালানোর চেষ্টা করলে র্যাব সদস্যরা তাকে ধরে ফেলে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছে অস্ত্র থাকার কথা ‘স্বীকার করেন’। পরে তার কক্ষ থেকে বিদেশি রিভলবার, ম্যাগাজিন, গুলি, মুখোশ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি টগর। ‘মুখোশ পরে’ ঢাকা শহরের বিভিন্ন তিনি ‘অপরাধ করে আসছিলেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
টগর সনি হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ২০০২ সালের ২৪ জুন। ২০২০ সালে কারামুক্তির পর থেকে তিনি ‘স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন’ বলে র্যাব জানিয়েছে।
২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েটে দরপত্র নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কেমিকৌশল বিভাগের ৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সনি।
বুয়েট ছাত্রদল সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের টগর গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েছিলেন তিনি।
দীর্ঘ আন্দোলনের পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিচারে নিম্ন আদালতে মুকি, টগর ও নুরুল ইসলাম সাগরের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আদালত।
২০০৬ সালের ১০ মার্চ হাই কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এসএম মাসুম বিল্লাহ ও মাসুমকে খালাস দেয় হাই কোর্ট।
মুকি পরে পালিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ায়, সাগরও পলাতক রয়েছেন। আর টগর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন, যাকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করল র্যাব।