১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লায় পাহাড়ি ঢলে তলিয়েছে গোমতীর চরের ফসলি জমি

সবজির গাছ ও চারা নষ্ট হবার আশঙ্কায় অপরিপক্ব ফলন তুলেছেন অনেক কৃষক।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2026, 04:25 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:37 PM

টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল তলিয়েছে। এতে চরে আবাদ করা আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি ও ফসল তলিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন সহস্রাধিক কৃষক।

এ অবস্থায় সবজির গাছ ও চারা নষ্ট হবার আশঙ্কায় অনেক কৃষক অপরিপক্ব ফলন তুলতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এসব পণ্যের দাম ও বিক্রি নিয়েও শঙ্কায় আছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান।

বৃহস্পতিবার সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভাসছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। কৃষকরা কোমর সমান পানিতে নেমে যতটা সম্ভব ফসল তুলে আনার চেষ্টা করছেন। ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে অল্প অল্প করে পানির উচ্চতা বাড়ছে বলে জানান কৃষকরা।

ভান্তি এলাকার কৃষক আবদুল হক বলেন, প্রায় তিনি লাখ টাকা খরচ করে আগাম জাতের মুলা ও লাউ চাষ করেছিলেন তিনি। হঠাৎ গোমতীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তার পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। দুই দিন জমি পানির নিচে থাকলেই কাদা চাপায় মারা যাবে চারাগুলো।

আরেক কৃষক আবদুল জলিল বলেন, তার ডাঁটা শাক, পুঁইশাক ও চালকুমড়ার ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তার মতো ভান্তি, কামারখাড়া, বালিখাড়া ও আশপাশের এলাকার অন্তত একশ কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, লাউ, চিচিঙ্গা, ডাঁটা শাক, চালকুমড়া, মুলাসহ বিভিন্ন সবজি অপরিপক্ব অবস্থায় তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। 

কৃষকদের ভাষ্য, পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে যতটুকু সম্ভব ফসল তুলে বিক্রি করে অন্তত কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। এতে লাখ লাখ টাকার ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া যা তুলেছেন তাও বিক্রি হবে জানেন না তারা। 

কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি নিজেও মাঠে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ক্ষয়ক্ষতির জরিপ শেষে কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, এদিন বেলা ৩টা পর্যন্ত গোমতী নদীর পানি ২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদীতে পানি বাড়ছে। বেশ কিছু জায়গায় পানিতে তলিয়েছে।

তবে এখনো পর্যন্ত গোমতী নদীর পানি ঝুঁকিতে রয়েছে কি-না বলা যাচ্ছে না; আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা পর্যবেক্ষণ করে দেখার কথা বলেছেন তিনি।