Published : 23 Apr 2026, 04:03 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ হয়েছে।
আগামী ১১ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।
আসামিরা পলাতক থাকায় এদিন তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন। এ মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন-কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং সাবেক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।
গত বছরের ২ নভেম্বর হানিফসহ এই চারজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় এবং ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়।
সেদিন ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হলে ট্রাইব্যুনাল দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
২৩ অক্টোবর আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করে ট্রাইব্যুনাল এবং ২৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়—যেখানে আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যথেষ্ট বলে ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যের সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সমর্থন জানানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করার ব্যাপারে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া, ষড়যন্ত্র করা এবং জুলাই-অগাস্ট মাসে আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরে ৬ জনকে হত্যা করার অভিযোগও রয়েছে।