মিরপুরে বাসায় মায়ের গলিত লাশ: যুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে কর্মরত এ কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর একটি বাসায় নুরজাহান বেগম নামে এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানকে ওএসডি করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে কর্মরত এ কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করা নুরজাহান বেগমের গলিত লাশ উদ্ধারের পর তার সন্তানদের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তার চার সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে যুগ্ম সচিব, মেজ ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং ছোট ছেলে কানাডায় বসবাস করেন এবং মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক।
সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও একাকী ঘরে মায়ের জীবনযাপন আর লাশ পড়ে থাকার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হলে বুধবার সন্ধ্যায় যুগ্ম সচিব ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এর কয়েক ঘণ্টার পরই আনিসুর রহমানকে ওএসডি করা হল।
বৃহস্পতিবার তাকে বদলি কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
পল্লবী ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে রোববার রাতে নূরজাহান বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বহুতল ভবনটির চতুর্থ তলায় মেয়ের বাসার একটি কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে নিঃসঙ্গ জীবন-যাপন করে আসছিলেন তিনি।
পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির এর আগে বলেন, “লাশটি দেখে মনে হয়েছে তিনি ৩-৪ দিন আগে মারা গেছেন। শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে পড়ছিল।”
এ ঘটনায় নুরজাহান বেগমের সন্তানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ‘কেয়ারগিভার’ নিয়োগের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে সেই আবেদনে।
বুধবার আইনজীবী মো. শরীফ সরকারের পক্ষে জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
আবেদনে বলা হয়, “সাত-আটদিন আগেই নূরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা। ফ্ল্যাটের ভেতরের অবস্থা অস্বাস্থ্যকর। আবর্জনায় ভরা আর দুর্গন্ধ ছিল। মর্মান্তিক বিষয় হল তার এক মেয়ে একই ফ্ল্যাটের পাশের কক্ষে বসবাস করলেও তিনি মায়ের মৃত্যুর খবর পুলিশকে দেননি।
“প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও সন্তানরা মায়ের চিকিৎসা ও যত্নে চরম অবহেলা করেছেন, যা আইনে অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানোর শামিল। ওই বৃদ্ধাকে পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এমনকি তাকে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে আটকে রাখা হয়ে থাকতে পারে, যা বাংলাদেশের সংবিধান ও মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের সরাসরি লঙ্ঘন।”
রিট আবেদন ছাড়াও নূরজাহান বেগমের প্রতি অবহেলা, দায়িত্বহীনতা, ভরণ-পোষণ ও আইনগত কর্তব্য পালনে ব্যর্থতার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে তার চার সন্তানকে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বুধবার এই নোটিস পাঠিয়েছেন।
