Published : 04 Jun 2026, 11:01 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ‘ভারতের সংশ্লিষ্টতার’ অভিযোগ তুলে এ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও খুনের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিতকরণের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় শাহবাগ মোড় থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্য চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানী ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে গুলিবিদ্ধি হন ওসমান হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় হাদি মারা যাওয়ার পর বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
তখন বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় হাই কমিশন ও সহকারী হাই কমিশনের সামনে এবং ভারতে বাংলাদেশের হাই কমিশন ও উপ হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ১৬ দিন পর ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দাবি করে, হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের সঙ্গে তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন ভারতের মেঘালয়ে থাকছেন এবং তাদের দুজন সহায়তাকারীকে (ভারতীয়) গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে ভারত সেসময় তাদের গ্রেপ্তারের কথা শিকার করেনি।
পরে মামলার দুই প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে গত ৮ মার্চ গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে ভারতের পুলিশ। এরপর থেকে এখনও তারা দেশটির কারাগারে রয়েছেন।
বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর প্রায় এক মাস পর মঙ্গলবার কলকাতায় এক কর্মসূচিতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন বাংলাদেশে আগের বছরের বড় একটি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে তাকে ‘চুপ থাকতে বলেছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিওতে তার এ বক্তব্য প্রচার করা হয়।
তৃণমূল নেত্রী মমতার এই বক্তব্যে হাদি হত্যাকাণ্ডকে জড়িয়ে বাংলাদেশে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
বুধবার মমতার ওই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আকাশপাতাল বলেতো লাভ নেই। আরেকটা দেশে নির্বাচন হয়েছে, সে দেশে একজন পরাজিত হয়েছে, সে পরাজিত একজন নেতা একটা কথা বলেছে, দ্যাট ইজ নট আওয়ার ম্যাটার টু ডিসকাস।”
তিনি বলেন, “ভারত সরকার যদি এখন বাংলাদেশকে হাদি হত্যার ব্যাপারে কিছু বলে… অলরেডি তো এটা নিয়ে কাজ চলছে, কাজ এগিয়েছে। এবং খুবই সিরিয়াসলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে। হাদি হত্যার বিচার আমরা চাই এবং এই যারা ধরা পড়েছে ভারতে, তাদেরকে ফেরত এনে এখানে বিচার বাস্তবায়ন দ্রুত করতে হবে।
“সে বিষয়ে কিন্তু আমরা সচেষ্ট আছি। এখন আরেকজন, একটা ইলেকশনে হয়েছে আরেকটা দেশে, পাশের দেশে, সেখানে যিনি হেরে গেছেন, তিনি বলছেন উনাদের সরকারকে উদ্দেশ্য করে, সেটা নিয়ে এখানে বাংলাদেশে আমার কমেন্ট করা উচিত হবে বলে আমি মনে করি না।”

এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয় এলাকায় মশাল মিছিল করল।
মিছিলে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ‘মুখ খুলো মমতা, জানতে চায় জনতা’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জাস্টিস, জাস্টিস’, ‘বাংলাদেশের আজাদী, ওসমান হাদি’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।
মিছিল শেষে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্য মাসুদুর রহমান আদনান বলেন, “এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই ইনকিলাব মঞ্চকে আশ্বস্ত করে বলেছিল যে আমরা ওসমান হাদির বিচারের বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কিন্তু তাদের সরকার ‘ফাংশন’ করার তিন মাস অতিক্রম করার পরেও এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা দেখা যায়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ একটি বক্তব্য দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমরা তাকে পছন্দ করি, কিন্তু তার বক্তব্যে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে কোনো দৃঢ় অবস্থান দেখতে পাইনি।
“ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য প্রকাশ করার পরেও আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে আমলে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল, ভারত ওসমান হাদির খুনিদের ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রশ্ন হলো তাদের ফিরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা কী? নাকি এ প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে থাকবে?”