০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকায় কোন হাজীর লাগেজ কাটা হয়নি, সৌদি কর্তৃপক্ষ কাটতে পারে: বিমান

লাগেজ কাটা হয়েছে এরকম কয়েকজন হাজির বরাতে বিমান বলছে, তারা লাগেজে জমজমের পানি ও তরল প্রসাধনী নিয়েছিলেন, যা এভিয়েশন বিধিমালার পরিপন্থি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jun 2026, 09:08 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

সৌদি আরব থেকে ঢাকায় নামার পর প্রায় দেড়শ হাজি তাদের লাগেজ কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে এক ব্যক্তির ফেইসবুক পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। তবে বিমান বলছে, তদন্তে তারা ঢাকায় কারো লাগেজ কাটার কোনো সূত্র পায়নি। 

বুধবার বিমান বাংলাদেশ এয়াললাইসেন্স এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমাদ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “লাগেজ কাটা হয়েছে এরকম কয়েকজন হাজি জানিয়েছেন, তারা লাগেজে জমজমের পানি ও তরল প্রসাধনী নিয়েছিলেন। 

“বিমানের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সৌদি নিয়ম অনুযায়ী লাগেজে জমজমের পানি বহন একেবারেই নিষিদ্ধ। পাশাপাশি যথাযথ সিলগালা ছাড়া তরল প্রসাধনীও বহন করা যাবে না। সে কারণে স্ক্যানিংয়ে এসব বস্তুর উপস্থিতি পেয়ে লাগেজ কেটে সৌদি বিমানবন্দরে সেগুলো জব্দ করা হতে পারে।” 

উড়োজাহাজ পরিচালনার পাশাপাশি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাদাতা।

বিমানের এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার ভোররাতে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ হজ ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে। পরে মোস্তফা কামাল পলাশ নামে একটি ফেইসবুক আইডি থেকে দাবি করা হয়, ওই ফ্লাইটে আসা প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মালপত্র চুরি হয়েছে। 

“বিষয়টি বিমান এবং বিমানবন্দরের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং টিম তাৎক্ষণিকভাবে নিবিড় অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করে।”

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইটটি রানওয়েতে অবতরণের পর রাত ৩টা ৫ মিনিটে প্রথম ব্যাগ এবং রাত ৩টা ৫১ মিনিটে ফ্লাইটের মোট ৮৩৬টি ব্যাগের সবকটি ডেলিভারি বেল্টে দেওয়া হয়। উড়োজাহাজের হোল্ড থেকে কনটেইনার, প্যালেট এবং ট্রলি-ডলির মাধ্যমে লাগেজগুলো যখন ব্যাগেজ ডেলিভারি এরিয়াতে আনা হয়, তখন পুরো পথটি সম্পূর্ণভাবে সিকিউরিটি গার্ডের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে নিয়ে আসা হয়। এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি অথরিটির (এভসেক) কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে ট্রলি-ডলি থেকে ব্যাগগুলো ড্রপ করা হয় লাগেজ ডেলিভারি বেল্টে। 

২১টি ব্যাগ বিমান থেকে নামানোর সময় ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ অবস্থায় পাওয়া গেছে তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, “উড়োজাহাজ থেকে ব্যাগ নামানোর সময় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফদের গায়ে থাকা বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সোর্টিং এরিয়ার সিসি ক্যামেরার ভিডিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায় প্রায় ২১টি ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় হ্যান্ডলিং স্টাফরা পায়।”

তবে ফেইসবুক পোস্টে ১৫০ জন যাত্রীর লাগেজ কাটার যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো ‘সুস্পষ্ট অভিযোগ’ নেই দাবি করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “প্রকৃতপক্ষে ওই ফ্লাইটে আসা ৮৩৬টি ব্যাগের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী তাদের ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছে মৌখিকভাবে জানান। 

“যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উক্ত লাগেজগুলোর ভেতরে জমজমের পানি, বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী (শ্যাম্পু ও লোশন) এবং খেজুর ছিল। যাত্রীদের ব্যাগ থেকে মূল্যবান কোনো সামগ্রী খোয়া যায়নি। তবে একজন যাত্রী তার ব্যাগের ভেতর থেকে একটি মানিব্যাগ হারানোর কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করেন।

“কর্তব্যরত বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফরা ওই যাত্রীদের বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ডেস্কে গিয়ে লিখিত অভিযোগ (প্রপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্ট – পিআইআর) দায়ের করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু যাত্রীরা কোনো প্রকার লিখিত অভিযোগ দায়ের না করেই বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন।”

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো হাজি বা যাত্রী মূল চেক-ইন লাগেজের ভেতরে কোনো অবস্থাতেই জমজমের পানি এবং যথাযথভাবে সিলগালা না করা তরল প্রসাধন সামগ্রী (শ্যাম্পু, লোশন ইত্যাদি) বহন করতে পারবেন না। জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় এসব তরল পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়লে, সৌদি বিমানবন্দর সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে তা বাজেয়াপ্ত করে থাকে। 

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নগদ টাকা বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ডিক্লারেশন ছাড়া এই ধরনের সামগ্রী লাগেজে রাখা এভিয়েশন বিধিমালারও পরিপন্থি বলেছে বিমান।