Published : 22 Jun 2026, 09:14 PM
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনায় জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা বা থানা পর্যায়ে চার স্তরের কমিটি গঠন করেছে সরকার।
এসব কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।
রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় অধিশাখার জারি করা প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের কথা লেখা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. লাল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি-পদায়নে কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য গঠিত কমিটির সভাপতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব। সদস্যের দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সদস্য-সচিব থাকবেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়)।
কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠাবে।
আন্তঃবিভাগ শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি করে বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এ কমিটিতে বিভাগীয় উপপরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা) এবং সভাপতির মনোনীত দুইজন ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ সদস্য হিসেবে থাকবেন। সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা)। কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে।
একই বিভাগের মধ্যে, তবে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন বিভাগীয় কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) বদলির আদেশ জারি করবেন।
জেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ডিসি হবে সভাপতি। সদস্য হবেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সভাপতির মনোনীত দুইজন ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং সভার কার্যবিবরণীসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন বিভাগীয় উপপরিচালকের (প্রাথমিক শিক্ষা) কার্যালয়ে পাঠাবে।
নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্বও জেলা কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। একই জেলার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন জেলা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করবেন এবং বদলির আদেশ জারি করবেন।
উপজেলা বা থানা পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলি আবেদন নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা বা থানা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে উপজেলা বা থানা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সভাপতির মনোনীত দুইজন ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে এবং সভার কার্যবিবরণীসহ প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাবে। একই উপজেলা বা থানার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করবেন এবং বদলির আদেশ জারি করবেন। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা আগে ‘প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে’ বদলির আদেশ পেয়েছেন, সেসব বিদ্যালয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলি করতে হবে।
বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫ জন।