Published : 22 Jun 2025, 01:42 AM
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগের ধারাবাহিকায় জুলাই মাসে জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের কথা বলা হচ্ছে, যেখানে সংস্কারের নানা বিষয় থাকবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সনদ প্রস্তুত হচ্ছে, যা বাস্তবায়নে দলগুলো অঙ্গীকার করবে।
কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলছেন, এই সনদের আলোকে আগামী দিনে সংসদে আসা দলগুলো সংস্কার বাস্তবায়ন করবে, যার মধ্য দিয়ে কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
গত অক্টোবরে প্রথম ধাপে গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা পড়ে ফেব্রুয়ারি মাসে। এসব প্রতিবেদনের সুপারিশের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশের বিষয়ে ৩৮টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত জানতে চায় ঐকমত্য কমিশন। দলগুলোর মধ্যে ৩৩টি তাদের মতামত দিয়েছে।
এরপর ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত দলগুলোর সঙ্গে ৪৫টি অধিবেশনের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ের সংলাপ শেষ করে ঐকমত্য কমিশন।
কোরবানির ঈদের আগে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়। এরপর ২ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শুরু করে কমিশন, যা এখনো চলছে।

সনদে কী আছে?
জাতীয় সনদে কী আছে জানতে চাইলে ঐক্যমত্যের কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই সনদে সেসব বিষয় থাকবে, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হবে।
“ভবিষ্যতের বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সরকার, শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি, নির্বাচনব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে যে ছয়টি কমিশন, সে কমিশনগুলোর প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যে সমস্ত বিষয়ে তারা একমত হবেন, সেগুলোর একটি তালিকা থাকবে।”
তিনি বলেন, “একটি প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার থাকবে, যে তারা এগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য সংবিধান, আইন সংশোধন, সংযোজন-বিয়োজন যা যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, সেটা করতে তারা অঙ্গীকার করেছেন৷”
এই সনদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে কতটা কার্যকর হবে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, “গণতান্ত্রিক উত্তরণে কার্যকর হবে এই কারণে যে, বাংলাদেশে গত ১৬ বছর কিংবা আরও দীর্ঘ সময়, ৫৩ বছর ধরে বাংলাদেশের শাসনকাঠামোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি হয় নাই।
“জবাবদিহিতার কোনো ব্যবস্থা নাই এবং ক্ষমতার কোনো ভারসাম্য নাই। তদুপরি দুর্নীতির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।
“নির্বাচন ব্যবস্থাগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত তো হয়নি উপরন্তু, আমরা তিনটি জালিয়াতিপূর্ণ কথিত নির্বাচন দেখতে পেলাম।”
আলী রীয়াজ বলেন, “এই যে জিনিসগুলো, এগুলোই তো গণতন্ত্রের পথে প্রতিবন্ধক। সেগুলোকে পরিবর্তন করা, সংস্কার করার প্রস্তাবই হচ্ছে সনদের প্রস্তাবগুলো।
“এগুলো যদি আমরা সকলে গ্রহণ করতে পারি, রাজনৈতিক দলগুলো যদি অঙ্গীকারাবদ্ধ হয় এবং এগুলো যদি বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের একটা সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, “এগুলো করলেই একেবারে অকস্মাৎ দেশ পরদিনই সঠিক গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হবে তা নয়। কিন্তু, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে আমরা বিবেচনা করতে পারি।”

সংবিধানে কী পরিবর্তন আসবে?
এই সনদ বাস্তবায়ন করতে গেলে সংবিধানে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে, জানতে চাইলে আলী রীয়াজ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো একমত হলে যে কোনো প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার যখন করবেন, তখন এগুলো যুক্ত করবেন বলে তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ হচ্ছেন। তারা করবেন।
“ফলে, সংবিধানের ওপর প্রভাব মানে শুধু তো সংবিধান না-সংবিধান, আইন, বিধি-বিধান, প্রজ্ঞাপন বিভিন্নভাবে এই পরিবর্তনগুলো করা যাবে। ফলে, সংবিধানে একটা বড় রকমের প্রভাব পড়বে।”
উদাহরণ টেনে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধানের দায়িত্ব পালন করা আলী রীয়াজ বলেন, “যেমন আমরা গতকাল (মঙ্গলবার) ঐক্যমতে আসতে পারলাম এমপিদের ভোটিংয়ের ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদে আগে যে রকম সব বিষয়ে বাধা ছিল, সেটা এভাবে থাকবে না। দুটো বিষয় ছাড়া সংসদ সদস্যরা নিজস্ব ইচ্ছে অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন। এটা একটা বড় রকমের গণতান্ত্রিক পদক্ষেপ।”
বাস্তবায়ন কীভাবে?
জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কী হবে জানতে চাইলে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি বলেন, “যেগুলো সংবিধানে সংশোধন করা দরকার হবে, সেগুলো যখন একটা সংসদ তৈরি হবে তার মধ্য দিয়ে সংশোধন হবে। সে সংসদের কী রূপ হবে, কী হবে ইত্যাদি আমরা জানি না। কিন্তু, সংসদের মধ্য দিয়ে করতে হবে।”
তবে, এর বাইরেও এই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি আছে তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন, “এর বাইরেও সনদ বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়া, পদ্ধতি আছে। তবে, এগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার তারা একত্রিত হয়ে করবেন আমরা আশা করছি।
“সকলেই স্বীকার করেছেন শুরুতে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা একটা সনদে সই করবেন।”
তিনি বলেন, “তদুপুরি এর বাইরেও দুটো পদ্ধতি আছে। একটা হচ্ছে—একটা কর্মপন্থার মধ্য দিয়ে করা যেতে পারে, যেসব বিষয়ে সবাই একমত হল, জনগণের সমর্থনও থাকল, বাধ্যবাধকতাও থাকল।
“আরেকটি লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক করা যেতে পারে যে নির্বাচনের আগে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হল, এই যে ঐকমত্য, এগুলোর ব্যাপারে যারা একমত হবেন না, তারা আসলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এটাও করতে পারে।”
আলী রীয়াজ বলেন, “এভাবেও লেখা যেতে পারে যে, যারাই নির্বাচনে যাবেন, তারা যখন বিজয়ী হবেন, তারা যেখানেই থাকুক, তারা এগুলো বাস্তবায়ন করতে এক ধরনের বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকবেন।”

রাজনৈতিক দলগুলো যা বলছে
জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করে নতুন গন্তব্যে পৌঁছে দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি।
মঙ্গলবার সকালে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার সংলাপের বিরতিতে সাংবাদিকদের সামনে দলের ভাবনা স্পষ্ট করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “একটা জায়গায় এসে সংস্কারের বিষয়গুলো সমাপ্ত করতে পারি এবং জুলাইয়ের মধ্যে যেন জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হতে পারে।”
সালাহউদ্দিন বলেন, “সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দুই বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। সেই দুইটা হচ্ছে- আস্থা ভোট ও অর্থ বিল। এই দুইটা বিষয় বাদে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এই দুই বিষয়ে তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। আরো কয়েকটি দল তার সঙ্গে সংবিধান সংশোধনী বিল যুক্ত করেছে।
এছাড়া জাতীয় সনদে সবার স্বাক্ষর থাকবে।”
তিনি বলেন, “সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসা গেছে। সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিসহ আরো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে সভাপতির পদ আসনের ভিত্তিতে বিরোধী দল প্রাপ্ত হবেন।”
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যে সমস্ত সংস্কার প্রস্তাব আছে, তার মধ্যে যতগুলো বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো প্রাথমিকভাবে একমত হবে সেই সব বিষয় জাতীয় সনদে থাকবে। যেগুলোতে একমত হবে না, সেগুলো তো যার-যার ইশতেহারে থাকবে৷
“এই সনদে যেসমস্ত প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেগুলোতে যদি ন্যূনতম ঐকমত্য হয়, তাহলে বাংলাদেশে শাসনব্যবস্থা কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষমতার জবাবদিহিতা, ভারসাম্য তৈরি হবে।”
সাকি বলেন, “সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, এক ব্যক্তির সর্বোচ্চ কয়টি মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, স্থানীয় সরকার, নারীর প্রতিনিধিত্ব এসমস্ত বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ সব বিষয়ে যদি যথার্থভাবে ন্যূনতম ঐক্যের মধ্য দিয়ে একটা জায়গায় পৌঁছানো যায় এবং সেটা একটা জাতীয় সনদের মধ্যে দিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে বাংলাদেশে ভবিষ্যতে সরকারব্যবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটা গুণগত পরিবর্তন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে আমাদের তো একটা প্রস্তাব আমরা ইতোমধ্যে দিয়েছি। সেখানে কিছু মৌলিক বিষয় রয়েছে যেমন- ক্ষমতা কাঠামোর পুনর্বিন্যাসের বিষয়, রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেগুলোর নিয়োগের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের ভিত্তিতে বা একটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া থাকা।
“আমাদের নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ পরিপূর্ণভাবে পৃথকীকরণ করা, এই বিষয়গুলো যদি সনদে ঠিকঠাক মত অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে আমরা মনে করি, সেটা ভবিষ্যতে দেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটানোর ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা রাখবে।”
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বামপন্থিরা মনে করি, আমূল পরিবর্তন ছাড়া আসলে আমরা জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ করতে পারব না। তার জন্য সময় লাগবে।
“কিন্তু, যদি উনি (ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ) এই প্রত্যাশা থেকে করে থাকেন যে যতটুকু বিষয়ে সবাই একমত হবে, ততটুকুর ভিত্তিতে উনি জাতীয় সনদ ঘোষণা করবেন, সেটা আমি অসম্ভব দেখি না। তাতে কিছুদূর অগ্রসর হব।
“বাকিটা নিশ্চয় যিনি আগামী দিনে পার্লামেন্ট যদি হয়, যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ আসে, তারা এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।”
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা খুবই ইতিবাচক। অবশ্যই আমরা এটাতে স্বাক্ষর করব। বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো স্বাক্ষর করবে। এটা নিয়ে কারও দ্বিমত এখনো চোখে পড়েনি। এটা খুবই ইতিবাচক হবে।
“রাষ্ট্রপরিচালনার যে নীতি, সে নীতি এই জাতীয় সনদ, এটা আমরা মনে করছি। অতীতে বারবার অভ্যুত্থান হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কার হয়নি।
“আমরা রাষ্ট্রের যে ফ্যাসিবাদী মসনদ, সেটি ভাঙতে পেরেছি, ভাঙার পরে যে গড়ার কাজ, সে কাজে আমরা বারবার ব্যর্থ হয়েছি।”

সংবিধান সংশোধন কীভাবে?
জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, তাতে করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ বেশ কিছু অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের দরকার হবে।
সে বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাংবিধানিক পরিবর্তন তো আসলে সাংবিধানিক ম্যান্ডেট যেভাবে আছে, সেভাবেই পরিবর্তন করতে হবে।
“এখন সনদটা তো হচ্ছে প্রত্যাশার প্রশ্ন; কী কী বিষয়ে দেশের নাগরিকরা সম্মিলিতভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করল, রাষ্ট্রটাকে কীভাবে চালাতে চায়, সেটাই। ইশতেহারটা ঠিক করা।
“এই ইশতেহারটাতে নির্দেশকগুলো থাকবে-কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার করা হবে; কিংবা পরিবর্তন, সংশোধন করা হবে। এই বিষয়গুলোকে তারা সনদে উল্লেখ করবেন।”
তিনি বলেন, “জনগণ যেটা চায়, সেটার প্রায়োগিক কাজটা নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারগুলো এলে, তারা কীভাবে দেখছে, পরিবর্তনটাকে কীভাবে প্রয়োগ করছে। প্রায়োগিক জায়গা থেকে দেখে আসলে বোঝার ব্যাপার আছে। সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে।
“যদি পরিবর্তনগুলো ইতিবাচক থাকে, বৈপ্লবিক না হলেও কিছু পরিবর্তন অন্তত আসবে। আর পরিবর্তন এল কিনা সেটা বোঝা যাবে প্রয়োগের মধ্য দিয়ে।”

তবে এই সনদ বাস্তবায়ন হবে কিনা সেটি নিয়ে সংশয় আছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিকের।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ধরেন, রাজনৈতিক দলগুলো রাজি হল। তারা সনদে স্বাক্ষর করল। এখন ধরেন যে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হল, যেহেতু ৭০ ধারা উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এখন প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, জাতীয় সনদ হিসেবে আমাদের সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কিন্তু বাকি সংসদ সদস্যরা বললেন, তারা রাজি না। তাহলে কি হবে?”
এই আইনজীবী বলেন, “এটা (সনদ) কোনো আইনসিদ্ধ ডকুমেন্ট নয়। যেটার আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা নাই। যত কিছুই লেখা থাকুক, যত স্বাক্ষর করুক, এটার কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকবে না।”
তিনি বলেন, “তবে, সে অনুযায়ী যদি দলগুলো রাজি হয়ে সংশোধন করে, ওটাতে বাধা নাই। কিন্তু এটা নৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া এর বেশি তো আইনগতভাবে কিছু সম্ভব না।”