Published : 19 Jul 2015, 10:21 PM
শনিবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজারের পোড়া কলোনিতে পাশের বাড়ির দেওয়াল ধসে তাতে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম ও ছোট মেয়ে সুরাইয়া আক্তার।
রোববার লালখান বাজার এলাকায় শরীফের সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদকের।
কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “ঈদের দিন সকালে স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়ে না খেয়েই অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে যাই। বৌকে বলেছিলাম রাতে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একসাথে খাব।
“রাতে টানা বৃষ্টির কারণে ঘরে ফিরতে অনেক দেরি হয়। ফিরেই শুনি স্ত্রী-ছোট মেয়ে আর নেই।”
ঈদের আগের রাতে ঘরের জন্য গরু, মুরগির মাংস ও নুডলস কিনেছিলেন শরীফ। সকাল ৮টার দিকেই স্ত্রী ও তিন সন্তানের সঙ্গে শেষ কথা হয় তার।
শরীফ বলেন, “এটাই যে মরিয়ম আর সুরাইয়ার সঙ্গে শেষ দেখা হবে ভাবতে পারি নাই। ঈদের দিনের আনন্দ আমার জীবনে ভয়ানক কষ্ট নিয়ে এসেছে।”

পোড়া কলোনিতে দেয়াল ধসে শরীফের স্ত্রী-কন্যা ছাড়াও তাদের পাশের ঘরের আঁখি নুর নামের পাঁচবছরের এক শিশু মারা গেছে।
আখিঁর মামা রফিকুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, জুন মাসের শুরুতে তার দুলাভাই আক্তার হোসেন স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন।
পোশাক শ্রমিক আক্তার আগে একা থাকলেও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে একটু ‘ভাল’ জীবনযাপনের আশায় ওই বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন বলে জানান রফিকুল।
তিনি বলেন, ঈদের আগে বেড়াতে বড় বোনের বাসায় এসেছিলেন।
“একঘরে দুলাভাই, দুই ভাগ্নি ও বোন হাসিনা একসাথে ঘুমিয়েছিল। রাতে বোন বাথরুমে যেতে বাইরে গেলেই দেয়াল ধসে পড়ে ভাগ্নি আঁখি চাপা পড়ে।”
দেওয়াল চাপার ঘটনায় তিনি নিজেও পিঠে ব্যথা পেয়েছেন বলেও জানান রফিকুল।
শনিবার গভীর রাতে প্রায় একইসময়ে বায়েজিদ থানার আমিন কলোনি এলাকায় পাহাড় ধসে নিহত হন তিন ভাই-বোন।