মঈনুল হক চৌধুরী
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ঢাকা, নভেম্বর ২৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বাইরে প্রধান বিরোধী দলের প্রবল আপত্তির মধ্যেই সংসদে পাস হলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভাগ করার বিল।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ নামে আলাদা দুটি সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে। আর এ দুটিতে নির্বাচন হবে ৯০ দিনের মধ্যে।
বর্তমান মেয়র ও কাউন্সিলররা আর দায়িত্বে থাকছেন না। নির্বাচন পর্যন্ত অনির্বাচিত ব্যক্তিই মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন।
শুধু সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার কণ্ঠভোটে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল-২০১১ নামে বিলটি পাস হয়।
ঢাকার ওয়ার্ডগুলো এখন দুটি সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হবে। ১ থেকে ২৩, ৩৭ থেকে ৪৭ এবং ৫৪ ও ৫৫ ওয়ার্ড (মোট ৩৬টি) নিয়ে গঠিত হবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। ২৪ থেকে ৩৬, ৪৮ থেকে ৫৩, ৫৬ থেকে ৯২ পর্যন্ত মোট ৫৬টি ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন হবে।
বিল পাসের সময় অনুপস্থিত ছিলেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছিলেন না জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদও। একমাত্র স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজিমও ছিলেন অনুপস্থিত।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে দেন স্পিকার আবদুল হামিদ।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, মইনুদ্দীন খান বাদল, শাহ জিকরুল হাসান, জামায়াতে ইসলামীর হামীদুর রহমান আযাদ ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজিম এ বিলে কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব তুললেও তারা কেউ উপস্থিত না থাকায় এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
এটিসহ উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল পাস হওয়ার পরপরই সংসদ অধিবেশন মুলতবি হয়।
রাষ্ট্রপতির সইয়ের পর আইনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে বিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনকরতে হবে। এ সময় সরকার পছন্দের ‘উপযুক্ত’ ব্যক্তি বা যে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। তবে এক ব্যক্তি একবারের বেশি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
সবকটি সিটি কর্পোরেশনের জন্য অভিন্ন স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরশন) (সংশোধন) আইন কার্যকর হবে বলে মেয়াদোত্তীর্ণ যে কোনো সিটি কর্পোরেশনেও প্রশাসক নিয়োগের বিধান হলো।
মেয়াদোত্তীর্ণের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের বেশি দিন প্রশাসক নিযুক্ত থাকতে না পারলেও নতুন সিটি কর্পোরেশনে ১৮০ দিন দায়িত্বে থাকতে পারবেন।
সংশোধিত বির্র্লে অন্তবতী দায়িত্ব পালনের জন্য ‘উপযুক্ত’ ব্যক্তির কথা বলা হলেও তার যোগ্যতার কোনো মাপকাঠি নির্ধারণ হয়নি।
এছাড়া সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী নিয়োগে সেনা মেতায়েনের আইনি সুযোগ বাদ দিয়ে বিলে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সংজ্ঞায় পবিবর্তন আনা হয়েছে।
সদ্যসমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিলো। সেনা মোতায়েন না হওয়ার কারণ দেখিয়ে তখন প্রধান বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচন বয়কট করে।
গত ২৩ নভেম্বর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাগ করতে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-এর সংশোধন বিল সংসদে উত্থাপন হয়।
সেদিন বিলটি পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। বিলটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সোমবার প্রতিবেদন দেয় কমিটি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/এমআই/১৭৩১ ঘ.