Published : 11 Jan 2026, 08:46 AM
সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মেনে ভোট বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অনিয়মসহ নানা পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোট বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত বিধিবিধান তুলে ধরে করণীয় নিয়ে এরই মধ্যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটও নেওয়া হবে সেদিন।
ভোটগ্রহণের সময়সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি, ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা, পুনরায় ভোটগ্রহণ, পুনর্নির্বাচন, প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার এবং ডাকযোগে ইসিতে ফল পাঠানোর বিষয় তুলে ধরা হয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে।
এবার প্রায় ৪৩ হাজার কেন্দ্রে প্রায় আড়াই লাখ ভোটকক্ষ রয়েছে, আর ভোটার সংখ্যা পৌনে ১৩ কোটি।
ভোট বাধাগ্রস্ত হলে কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা, পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজন হলে পুরো নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
ভোট বন্ধ করা যাবে কখন
ভোট দিতে বাধা দেওয়া, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স নষ্ট ও ছিনতাই করাসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয় কেন্দ্রের। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের শাস্তির বিধানও রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী—
>> প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ভোটগ্রহণ বিঘ্ন কিংবা বাধাগ্রস্ত হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হলে প্রিজাইডিং অফিসার তখনই ভোটগ্রহণ বন্ধ করবেন এবং রিটার্নিং অফিসারকে জানাবেন।
>> এক্ষেত্রে ব্যালট বাক্স অপসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হলে কিংবা হারিয়ে গেলে, ভোটের ফল নির্ধারণ সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের (বন্ধ ঘোষিত ভোটকেন্দ্র) ভোট গণনা করা যাবে না।


পুনরায় ভোট নেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে—
>> বন্ধ ঘোষিত ভোটকেন্দ্রের ফল বাদ দিয়ে পুরো নির্বাচনি এলাকার ফল নির্ধারণ সম্ভব না হলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে নতুন করে ভোট নেওয়ার নির্দেশ দেবে।
এক্ষেত্রে ওই কেন্দ্রের সব ভোটার আবার ভোট দিতে পারবেন। রিটার্নিং অফিসার কমিশনের অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বা কেন্দ্রগুলোর ভোটের নতুন দিন নির্ধারণ করে গণবিজ্ঞপ্তি দেবেন।
ভোটে অপকর্ম, বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টিসহ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব হলে কমিশন যেকোনো পর্যায়ে কেন্দ্র বা নির্বাচনি এলাকার ভোটগ্রহণসহ নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারবে।
ডাকযোগে ভোট ও ফল পাঠানো
এবার পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসী ও নির্ধারিত শ্রেণির ভোটাররা ডাকযোগে (ওসিভি ও আইসিভি) আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।
ভোটের দিন গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি ডাকযোগে জাতীয় সংসদ ও গণভোটের ভোটগণনার বিবরণীর এক কপি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন।
এজন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিশেষ খাম সরবরাহ করা হবে এবং খাম পৌঁছাতে পোস্ট অফিস ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
প্রার্থী ও প্রতীক-ভোটকেন্দ্রে ব্যানার ও প্রবেশাধিকার
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত পরিবেশবান্ধব ব্যানার প্রদর্শনের কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন।
পাশাপাশি কারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন— সে সংক্রান্ত ফেস্টুন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানাতে হবে। অবাঞ্ছিত কেউ যেন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গণভোট সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে। এতে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট লিখিত প্রস্তাবসমূহ স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

ভিজিল্যান্স, অবজারভেশন ও মনিটরিং টিম গঠন
ভোটের আগের অনিয়ম রোধকল্পে বিভিন্ন কমিটি গঠন ও তাদের কার্যপরিধি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা রয়েছে। এসব কমিটিকে কাজ শুরু হয়েছে তফসিল ঘোষণার পর থেকে।
তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে—
>> নিরপেক্ষতা অক্ষুন্ন রাখা
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা সবার কাছে সমুজ্জ্বল ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে রিটার্নিং অফিসারকে একগুচ্ছ নির্দেশনাও দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে রয়েছে—
>> বিশেষ কোনো মহলের কোনো প্রকার প্রভাব বা হস্তক্ষেপে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা যেন ক্ষুন্ন না হয়, তা আইন, বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার আলোকে নিশ্চিত করতে হবে;
>> সবাইকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে;
>> ভোটদানের জন্য ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বচ্ছন্দে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন;
>> ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং যেকোনো প্রকার অশুভ কার্যকলাপ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিতে হবে।
ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠন
নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে জনগণের কাছে দৃশ্যমান করতে জেলা পর্যায়ে ও মেট্রোপলিটন এলাকায় রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও বেসরকারি পর্যায়ে দল নিরপেক্ষ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠন করতে হবে।
>> নির্বাচনি প্রচারণা ও নির্বাচনি ব্যয় বাবদ নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ব্যয় করেছে কিনা অথবা অন্যান্য বিধি-বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে কিনা তা সরেজমিনে পরিদর্শন;
>> আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের কোনো বিষয় নজরে আসা মাত্রই বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা নির্বাচনি তদন্ত কমিটিকে (ইলেক্ট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটি/এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) জানানো এবং
>> নির্বাচনি ব্যয়সংক্রান্ত বিধিবিধান (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৪৪ক) যথাযথভাবে প্রতিপালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থী বা তার প্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কমিটি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করা।
নির্বাচন মনিটরিং টিম গঠন
রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাচন মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে।
এছাড়া নির্বাচনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহের কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন ও সুসংহত করার লক্ষ্যে রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন করতে হবে।
নির্বাচন: অভিযোগ-তথ্য দিতে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল ইসির
সংসদ ও গণভোট: কোথায় কখন কীভাবে কাজ করবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী?