Published : 28 Mar 2026, 10:13 PM
রোজার ঈদ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরেও ঢাকামুখী ট্রেনে যাত্রীদের চাপ কমেনি।
শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসা প্রতিটি ট্রেনই ছিল যাত্রীতে ভরা।
কোনো কোনো ট্রেনের কামরার ভেতরে দাঁড়ানোর মতো জায়গাও ছিলই না; যাত্রী ছিল ছাদেও।
কমলাপুর স্টেশনের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত মোট ৩২টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় পৌঁছেছে।
এর মধ্যে চট্টলা এক্সপ্রেস, কালনি এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস দেরিতে পৌঁছায় বলে জানান কমলাপুর স্টেশনের তথ্য ডেস্কের কর্মী মো. শরিফুল।
শনিবার দুপুরের পর পর চট্টগ্রাম থেকে মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসে করে ঢাকায় নামেন মোহাম্মদ শাহিদ হোসেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে ১১ দিন ছুটি কাটিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরছেন।

শাহিদ বলেন, “আমাদের অগ্রিম টিকিট কাটা ছিল, কিন্তু ট্রেনে এত যাত্রী উঠেছে যে, বসে থেকেও স্বস্তি পেলাম না। মাথার উপর, ঘাড়ের উপর যাত্রী ছিল।”
তার অভিযোগ, স্ট্যান্ডিং টিকেট শতকরা ২৫ ভাগ দেওয়ার কথা। কিন্তু এর বাইরেও অনেকে ট্রেনে ওঠায় এই অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের।
সকাল ১১টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছান কিশোরগঞ্জ থেকে আসা এগারো সিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের যাত্রী আরিফ হোসেন।
একই চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “টিকেট কেটে দুজনের সিটে তিনজন করে বসে আসতে হয়েছে। মানুষের চাপে সিটে বসেও শান্তি ছিল না।”
এই যাত্রীর প্রশ্ন, “একটি ট্রেনে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকেট দেওয়ার কথা। কিন্তু সিটের যাত্রীর চেয়ে দ্বিগুণ মানুষ কীভাবে উঠল?”
জামালপুর কমিউটার ট্রেনে ময়মনসিংহ থেকে কমলাপুর স্টেশনে নামেন মোহাম্মদ ইমরান আলী।
তিনি বলেন, “আমি কোনো টিকিট নিয়ে আসতে পারিনি।স্টেশনে প্রবেশের সময় চেকারদের কাছ থেকে স্ট্যন্ডিং টিকিট নিয়ে উঠেছি। প্রচণ্ড ভিড়, দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না।”

রেল কর্মকর্তা ও যাত্রীদের ভাষ্য, অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানামার কারণে বেশি সময় লেগেছে। এ কারণে অনেক ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেনি।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী জামান তালুকদারের অভিযোগ, “আমি এই ট্রেনের নিয়মিত যাত্রী। আজ মনে হলো এটা লোকাল ট্রেন। ঘণ্টা খানেক দেরি হয়েছে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে।”
কমলাপুর স্টেশনের কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, “ঈদের ছুটির পর আজই সর্বোচ্চ যাত্রী ঢাকায় এসেছেন। তবে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই তারা নিরাপদে ঢাকা ফিরেছেন।”
ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠার কারণ হিসেবে ঢাকার বাইরের স্টেশনগুলোতে নজরদারি না থাকার কথা বলাছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশ না করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “ঢাকার মতো টিকেট যাচাই করে যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মে ঢোকানো বাইরের বহু স্টেশনে সম্ভব হয় না। তাই টিকেট ছাড়া যাত্রীরাও টেনে উঠে যায়।
‘আর ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানামা করলে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকভাবেই বেশি সময় লাগে।”