Published : 09 Jul 2026, 07:27 PM
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। এতে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বুধবার ভোর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয়রা বলছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী ও ভোগাই এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর মধ্যে চেল্লাখালীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর তীরের পুরোনো ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল স্রোতে ঢলের পানি প্রবেশ করায় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত জেলার শেরপুর পয়েন্টে ১৩৬ দশমিক ৫০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ১১০ মিলিমিটার এবং নাকুগাঁও পয়েন্টে ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নালিতাবাড়ী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর পানি বেড়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে।
ছাড়াও শেরপুর জেলা শহর থেকে গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী আসার সড়কটি গোল্লারপাড় এলাকায় পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেকোনো সময় সড়কটি ভেঙে গিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
শেরপুর পাউবোর প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, “বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি। পাহাড়ি নদীগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“আর বৃষ্টি না হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু দুপুরের পর হতে বৃষ্টি কমে গেছে, তাই আশাবাদী পানি নেমে যাবে।“
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি নদীগুলোর পানি বেড়েছে। বিশেষ করে মহারশী ও চেল্লাখালী নদীর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী, পাউবোর লোকজন ও নিজস্ব জনবল নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।