Published : 23 May 2026, 02:07 PM
ফরিদপুরের ‘জোবাইদা করিম জুট মিলস লিমিটেডে’ রুফটপ সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের কাজের উদ্বোধন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শনিবার সকালে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও ওজোপাডিকোর চেয়ারম্যান নূর আহ্মদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর প্রতিমন্ত্রী ‘জোবাইদা করিম জুট মিলস লিমিটেডের’ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর মিয়া এবং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সরকার শিল্পকারখানায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সাম্প্রতিক সময়ে রুফটপ সোলার স্থাপনে জোর দিচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শিল্প খাতে গ্রিডনির্ভরতা কমানো এবং দিনে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ সরাসরি কারখানায় ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুতের চাপ কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে সরকার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি ভবনে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় রুফটপ সোলার স্থাপনে উৎসাহ দেয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে আমদানি নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং জাতীয় গ্রিডেও অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদা কমবে।
দেশে গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা ও উৎপাদন ঘাটতির মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ মোট উৎপাদনের তুলনায় এখনও কম।
প্রকল্প উদ্বোধন করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অন্যান্য প্রাইভেট কোম্পানির জন্যে জোবাইদা করিম জুটমিল একটি মডেল হতে পারে। পরবর্তীতে আরো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক জনসেবা করার মনমানসিকতা নিয়ে অন্য প্রাইভেট কোম্পানিসমুহ এগিয়ে বসবে বলে আশা করি।”
সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে ২১টি জেলায় ডিসি অফিস, এসপি অফিস, হাসাপাতালসহ সরকারি ভবনে সোলার পাওয়ার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ২, ফরিদপুর দপ্তরের আওতাধীন জোবাইদা করিম জুট মিলসের রুফটপ সোলার প্ল্যান্টের স্থাপিত ক্ষমতা ৫ দশমিক ৪১৯ মেগাওয়াট পিক।
৩৩ কেভি এইচটি ৩ গ্রাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির হিসাব নম্বর ৪০২১৮৯৯০১। বিদ্যুৎ বিভাগের নেট এনার্জি মিটারিং প্ল্যাটফর্মে ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক আবেদন করা হয়। ওই আবেদন অনুমোদন পায় ২৮ সেপ্টেম্বর।
গ্রাহকের নিজস্ব অর্থায়নে ক্যাপেক্স মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পে ৬১৫ ওয়াট পিক ক্ষমতার ৮ হাজার ৮১১টি পিভি প্যানেল বসানো হয়েছে। এতে ডিসি সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪১৯ মেগাওয়াট পিক। পিভি প্যানেল সরবরাহ করেছে চীনের জেএ সোলার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।
এসি সক্ষমতা ৪ দশমিক ২৯ মেগাওয়াট। এ জন্য ১১০ কিলোওয়াট পিক ক্ষমতার ৩৯টি ইনভার্টার বসানো হয়েছে। ইনভার্টার সরবরাহ করেছে এসএমএ সোলার টেকনোলজি এজি, চীন।
নেট মিটার হিসেবে সিইডব্লিউই প্রোমিটার ১০০ ডাবল ট্যারিফ বাই ডিরেকশনাল মিটার গোয়ালচামট ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশনে স্থাপন করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট থেকে বিলিং মিটারের দূরত্ব ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার।
৩৩ কেভি এসিএসআর মার্লিন সোর্স লাইনের বিদ্যুৎ পরিবহন সক্ষমতা ২০ মেগাওয়াট। জোবাইদা করিম ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশনের সক্ষমতা ৫ এমভিএ।
প্রকল্পের সিস্টেম মূল্যায়নের জন্য ২০২৬ সালের ৯ মার্চ আবেদন করা হয়। নেট মিটার হিসেবে সিস্টেমটির অনুমোদন দেওয়া হয় ২৮ এপ্রিল। এর আগে ১৬ এপ্রিল কারিগরি দল সর্বশেষ পরিদর্শন করে।
ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, এখন নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫ এর পরিশিষ্ট ৪ অনুযায়ী গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর এবং সার্কিট ব্রেকার চালু করে গ্রিডের সঙ্গে সিস্টেমটি সিঙ্ক্রোনাইজ করার কাজ বাকি রয়েছে।