Published : 07 Jul 2025, 09:38 PM
দুদক সংস্কার কমিশনের ‘২৯ নম্বর’ সুপারিশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর, স্ববিরোধী ও হতাশাজনক’ বলেছে কমিশন।
সোমবার এক বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, দুদকের তদন্ত কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রিতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থবিরতা দূর করার লক্ষ্যে এ সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যান্য সুপারিশের সঙ্গে সম্মত হওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে কমিশন বলছে, এ বাধ্যবাধকতা না রাখলে দুদকের কার্যক্রম বিলম্বিত হবে বলে বিএনপি যে যুক্তি দিচ্ছে, তা নিতান্তই ‘বিভ্রান্তিমূলক ও স্ববিরোধী’।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় কোন কোন প্রস্তাবে বিএনপি একমত হয়েছে, আর কোন কোন বিষয়ে একমত হতে পারেনি, রোববার সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই পরিসংখ্যান হাজির করে বিএনপি।
সেদিন এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এনবিআরের কাছ থেকে দুদকের তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিদ্যমান বিধান অব্যাহত রাখার পক্ষে।
আয়কর আইন অনুযায়ী, দাখিল করা রিটার্ন বা হিসাব বিবরণী বা দলিলাদি গোপনীয় এবং আদালতের আদেশ ছাড়া এনবিআর দুদককে এসব তথ্য দিতে পারে না।
দুদক সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনের ২৯ নম্বর সুপারিশে এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার কথা বলেছে।
এই সুপারিশের বিপক্ষে বিএনপির অবস্থানে ‘হতাশা’ প্রকাশ করে কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দুদকের কার্যক্রমে অহেতুক বিলম্ব রোধ করার জন্য আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিদ্যমান বিধান অব্যাহত রাখার যুক্তি দিয়েছে বিএনপি।
“কিন্তু বাস্তবতা হলো, আদালতের অনুমতির বিধান রাখার ফলে দুর্নীতির তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতা বৃদ্ধি এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতিহত করার সুযোগ তৈরি হয়, যা দুদকের অকার্যকরতার অন্যতম কারণ।”
তিনি বলেন, “যে তথ্য এনবিআরের কাছে থাকতে পারে, তা এনবিআরেরই সহযোগী সংস্থা দুদককে পেতে হলে আদালতের আদেশ লাগবে— এটা কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কমিশন জোরালোভাবে বিশ্বাস করে, উল্লিখিত সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের গতি, কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা বাড়াবে, যা দুদকের স্বাধীনতা ও কার্যকরতার অভিষ্ট অর্জনের পূর্বশর্ত এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
আরও পড়ুন
কতগুলো সংস্কার প্রস্তাবে একমত হয়নি বিএনপি, খতিয়ান দিলেন ফখরুল