Published : 10 Jun 2026, 04:27 PM
চব্বিশের অভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা হবে যে কোনো দিন।
বুধবার প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখে।
হানিফ ছাড়া মামলার অপর তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং সাবেক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। তারা সবাই পলাতক।
এদিন আদালতে আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। পরে তার যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গত ৭ জুন হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছিল প্রসিকিউশন। এ মামলায় গত ১১ মে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। তার আগে গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জেরার মধ্য দিয়ে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
গত বছরের ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন এই চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিলে ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়। সেদিন ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
পরে পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হলে ট্রাইব্যুনাল দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
এরপরও তারা হাজির না হওয়ায় গত ২৩ অক্টোবর আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করে ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ২ নভেম্বর হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে এই আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।
এর মধ্যে অন্যতম হল ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়, যেখানে ‘আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে যথেষ্ট’ বলে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যের সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে মৌন সমর্থন জানানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় একটি ‘গোপন বৈঠকে’ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করার ব্যাপারে ‘সরাসরি নির্দেশ’ দেওয়া, ষড়যন্ত্র করা এবং জুলাই-অগাস্ট মাসে আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে এই চার আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।