Published : 10 Jun 2026, 06:18 PM
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে ৯ হাজার ৪০৭টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে নার্সের অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৫০১টি পদের মধ্যে ৫ হাজার ৩২টি পদ শূন্য রয়েছে। আর স্বাস্থ্যকর্মীর অনুমোদিত ২৬ হাজার ৫৪৪টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৮ হাজার ৭৮৪টি।
একই প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার হবিগঞ্জ জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জনবল সংকট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা উপকরণের অভাবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ৭৭টি পদের মধ্যে পূরণ হয়েছে ২৩টি, শূন্য রয়েছে ৫৪টি। নার্সের ১৯০টি পদের মধ্যে পূরণ হয়েছে ১৫০টি, শূন্য ৪০টি। অন্যান্য কর্মচারীর ৯৯টি পদের মধ্যে ৫৬টি পূরণ হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকের ১৩০টি পদের মধ্যে ১১১টি পূরণ হয়েছে এবং ১০টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সের ২১৪টি পদের মধ্যে ১৭৮টি পূরণ হয়েছে, শূন্য পদ ৪৬টি। অন্যান্য কর্মচারীর ৭৩৩টি পদের মধ্যে ৪০১টি পূরণ হয়েছে, বাকি পদ শূন্য রয়েছে।
শূন্য পদে নিয়োগকে ‘চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ৪৫তম বিসিএসে ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএসে ১ হাজার ৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএসে ১ হাজার ৩৩১ জন এবং ৫০তম বিসিএসে ৬৫০ জন সহকারী সার্জন নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিনিয়র স্টাফ নার্সের শূন্য পদ পূরণে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
কুকুরে কামড়ের ভ্যাকসিনের মজুদ চার স্তরে
চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ দেশের সব হাসপাতালে কুকুরে কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৫ ভায়াল, অর্থাৎ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ ডোজ অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে এবং সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ১০ জুন পর্যন্ত বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ ভায়াল বা ২০০ ডোজ অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে।
শরীরের ওপরের অংশে কুকুর কামড়ালে দ্রুত অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য ব্যবহৃত ইমিউনোগ্লোবুলিনও সরবরাহ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাঁশখালীতে এর মজুদ রয়েছে ৬৫ ভায়াল বা ২৬০ ডোজ।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ভ্যাকসিনের মজুদ রাখা হয়েছে। কোনো উপজেলায় মজুদ শেষ হয়ে গেলে পাশের উপজেলা, সেখানেও না থাকলে জেলা এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
উপজেলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিনতে হোসাইনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি বলেন, সারা দেশের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর সঙ্গে জনবল, যন্ত্রপাতি, আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, পোস্ট-অপারেটিভ সেন্টার এবং মাদার ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর জন্য এক থেকে দুটি এক হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং আরও ১৫ থেকে ২০টি এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ-ছয়টির বিষয়ে নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও কুমিল্লায় ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া আটটি ক্যান্সার হাসপাতালের যন্ত্রপাতি আমদানির প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ক্রয়ের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হান্টাভাইরাস সংক্রমণের আন্তর্জাতিক ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত স্বাস্থ্য নজরদারি জোরদার, যাত্রী স্ক্রিনিং, রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রস্তুতি বৃদ্ধি, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং জরুরি সেবার সক্ষমতা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।