Published : 24 Jul 2025, 02:43 PM
রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর জঙ্গি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর অগ্নিকুণ্ড থেকে শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দেওয়া দুই শিক্ষক মাহেরিন চৌধুরী ও মাসুকা বেগমকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানান হয়, বৈঠকের শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। তাদের আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতও করা হয় বৈঠকে।
“পরিষদের বৈঠকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসা সেবায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।”
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে, “উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্কুলের নিহত দুজন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সম্মাননার বিস্তারিত অতিদ্রুত নির্ধারণ করা হবে।”
এদিকে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করে শুক্রবার সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে।
গত সোমবার বিমান বাহিনীর একটি ‘এফ-৭ বিজিআই’ফাইটার জেট উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, স্কুলে মাঠে বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটি ছেঁচড়ে গিয়ে ধাক্কা খায় দোতলা একটি অ্যাকাডেমিক ভবনে। অগ্নিগোলকে পরিণত হওয়া সেই বিমানের শিখা স্কুল ভবনটিকেও গ্রাস করে নেয়।
তখন স্কুল ছুটির সময়, অনেক অভিভাবকও ভিড় করেছিলেন ভবনটির কাছে। দুর্ঘটনার পর ভবনের প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বের হতে পারছিলেন না কেউ।
ওই ঘটনায় যে ২৯ জনের মৃত্যুর তথ্য এ পর্যন্ত এসেছে, তাদের মধ্যে আছেন শিক্ষক মাহেরিন চৌধুরী ও মাসুকা বেগম।
নরককুণ্ডে পরিণত হওয়া ক্লাসরুম থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনতে মাহেরিন ও মাসুকার সাহসীকতার গল্প সেদিনই ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
সেখানে বলা হয়, তারা চাইলে সেখান থেকে আগে বের হতে পারতেন। কিন্তু তার বদলে তারা আটকা পড়া শিশুগুলোকে নিরাপদে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এভাবে অনেক মায়ের কোল তারা বাঁচিয়ে গেলেও নিজেরা বাঁচতে পারেননি।
মাইলস্টোনের ঘটনায় দগ্ধ ও আহত ৫৭ জন এখনো জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট, সিএমএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি বলেছে, দুর্ঘটনার তিন দিন পরও তিনজন ছাত্রী ও দুইজন অভিভাবকের সন্ধান মেলেনি।
পুরনো খবর...
অনেক মায়ের কোল বাঁচিয়ে চলে গেলেন মাহেরীন, ঘরে রইল দুই সন্তান
'ওরাও তো আমার সন্তান, ওদের রেখে কী করে আসি', স্বামীকে বলেছিলেন মাহেরীন
হাসপাতালে শিক্ষক মাসুকা বলেছিলেন, লাশটি যেন সোহাগপুরে পৌঁছে দেওয়া