Published : 30 Jun 2026, 03:19 PM
আগের বিশ্বকাপেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া মরক্কো এবারও ছুটছে দারুণ ছন্দে। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোয়। আফ্রিকার দলটির কোচ মোহামেদ ওয়াহবির মতে, চমৎকার সব পারফরম্যান্সে বিশ্বমঞ্চে সবার সম্মান অর্জন করে নিয়েছে তারা।
আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে কাতার বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনালে খেলার কীর্তি গড়ে মরক্কো। সেই পথে এবারও ছুটছে তারা। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে রুখে দেওয়া দলটি শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে হারিয়ে দিয়েছে ডাচদের।
মন্তেরেইয়ে বাংলাদেশ সময় সকালের জমজমাট ম্যাচটিতে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জেতে মরক্কো। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের লড়াই ১-১ সমতায় শেষ হয়।
২০২২ আসরে শেষ চারে ওঠার পথে পর্তুগাল ও স্পেনকে হারিয়েছিল মরক্কো। এবার তারা হারিয়ে দিল ডাচদের। জয়ের পর ওয়াহবি বললেন, মুখের কথায় নয়, কাজ দিয়ে সবার সম্মান অর্জন করে নিয়েছেন তারা।
“মরক্কো এখন সবার সম্মান অর্জন করেছে। এটা কেবল আমাদের মুখের কথার জন্য নয়, আমরা মাঠে সেটা করেও দেখিয়েছি।”
এদিন ৭০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশ্যে ১১টি শট নেয় মরক্কো, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল পাঁচটি। সেখানে নেদারল্যান্ডসের ছয় শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে।
সব বিভাগেই ডাচদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে খেলতে পারার উচ্ছ্বাস ঝরল ওয়াহবির কণ্ঠে।
“নেদারল্যান্ডসের মতো দলের বিপক্ষে আমরা আধিপত্য করেছি। ৭০ শতাংশ পজেশন ছিল আমাদের, গোলের উদ্দেশ্যে বেশি শট নিয়েছি এবং প্রত্যাশিত গোলের সংখ্যাও আমাদের বেশি ছিল। আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি।”
“আমরা শান্ত থেকে নিজেদের খেলা খেলতে চেয়েছি। বিশ্বাস ছিল, যদি পেনাল্টি শুটআউটে যায় ম্যাচ, আমাদের অসাধারণ একজন গোলরক্ষক আছে। আমরা ম্যাচটিকে বিশৃঙ্খল লড়াইয়ে পরিণত করতে চাইনি। আমরা ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করেছি।”
মরক্কোর বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার বার্তা ম্যাচের আগেরদিন দিয়েছিলেন ডাচ কোচ রোনাল্ড কুমান। কিন্তু ম্যাচ তাদেরকে দেখা গেল উল্টো ভূমিকায়, রক্ষণ সামলানোয় বেশি মনোযোগী ছিল দলটি।
নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে এমন খেলা আশা করেননি মরক্কোর কোচ ওয়াহবি।
“আমি সত্যিই ডাচদের থেকে এমন রক্ষণাত্মক খেলা আশা করিনি, কারণ নেদারল্যান্ডস সবসময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দ করে এবং বল পায়ে তারা বেশ শক্তিশালী। তবে তাদের এই রক্ষণাত্মক খেলাকে আমাদের প্রতি এক ধরণের সম্মান হিসেবেই দেখছি।”
৪৯ বছর বয়সী ওয়াহবির মতে, চার বছর আগের বিশ্বকাপের পারফরফম্যান্স মরক্কোর খেলোয়াড়দের মানসিকতা পুরোই বদলে দিয়েছে।
“গত কয়েক বছর ধরে মরক্কোর খেলোয়াড়রা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখছে এবং সমর্থকরাও আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন।”
শেষ ষোলোয় মরক্কোর প্রতিপক্ষ কানাডা। এই ম্যাচটিও যে কঠিন হবে, সেটা নিয়ে দলকে সতর্ক করে দিয়েছেন ওয়াহবি।
“আমরা যদি নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবলটা খেলতে পারি, তবে কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। তবে ফুটবলে কেউ অপরাজেয় নয়। আমরা যদি ভুল করি, আমাদেরও বাড়ি ফিরে যেতে হবে।”