Published : 22 Apr 2026, 08:27 PM
ওয়াসার পানি দুর্গন্ধময়, পানিতে পোকা থাকায় মানুষ তা পান করতে পারছে না বলে সংসদে তুলে ধরলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম।
তিনি বলেছেন, জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা ও পুরোনো গ্যাস লাইনের সমস্যায় পুরো ঢাকা শহর ভুগছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে ঢাকা-১২ আসনের এই সংসদ সদস্য এ কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে সাইফুল আলম বলেন, “ঢাকা শহরে যারা বাস করেন, তাদের চারটা সমস্যা।”
প্রথম সমস্যা হিসেবে তিনি জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেন, “ঢাকা শহরের সমস্ত ন্যাচারাল ক্যানেলগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে আমার ঢাকা-১২ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা।”
বর্ষা সামনে রেখে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেই ধানমণ্ডি ও বিজয়সরণীতে পানি জমে যায়।
“বসুন্ধরা এলাকার সামনের পান্থপথের উত্তর পাশে একটি খাল ছিল, সেটি বন্ধ করে মার্কেট করা হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার আবাসিক অংশে বর্ষাকালে হাঁটু পানি জমে যায়।”
এ সমস্যার সমাধানে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান এ সংসদ সদস্য। ওয়াসার পানির মান নিয়েও অভিযোগ তোলেন তিনি।
সাইফুল আলম বলেন, “ওয়াসার পানি দুর্গন্ধময়, ওয়াসার পানিতে পোকা থাকে, লোকেরা ওয়াসার পানি খেতে পারে না।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বিশেষ পদক্ষেপ চান তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভালো করা দরকার।
তার ভাষায়, “নোংরা উন্মুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জায়গায় জায়গায় ভাগাড় স্থাপন করা হয়েছে, গন্ধ বের হচ্ছে।”
এসব সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তাও চান বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্য।
গ্যাসের সমস্যার কথা তুলে ধরে সাইফুল আলম বলেন, ‘পুরো ঢাকা শহর’ এ ভোগান্তিতে আছে। তার ভাষ্য, ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরোনো অনেক গ্যাস লাইন এখন সংস্কার করা দরকার।
একই ধারার আলোচনায় নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. এনামুল হক বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বোরো মৌসুমে সেচে ব্যাঘাতের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কিছু কিছু উঁচু জমিতে পানি না থাকায় ধান পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দামও পাচ্ছেন না।
সারের ‘সুষ্ঠু বণ্টন হয় না’ অভিযোগ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, প্রয়োজনের সময় সার পাওয়া যায় না, বরং প্রয়োগের সময় শেষ হওয়ার পর তা আসে। ‘সিন্ডিকেটের কারণেই’ এ সমস্যা হচ্ছে।
জামায়াতের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হলেও অপরাধীরা সেখানেই লুকিয়ে থাকে। পুলিশ প্রতিদিন সক্রিয়ভাবে অভিযান চালালে অপরাধী ধরা পড়বে, অপরাধও কমবে।
তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য।
তার ভাষায়, “যারা অভিযানে যায় পুলিশের মধ্যে কিছু ভালো লোকও আছে, আবার এমনও আছে দেখা যায় যে ওখানে গিয়ে মোবাইল টিপে অথবা তাদের সঙ্গে খাই-খাতির করে।”
অপরাধী ও চাঁদাবাজদের ধরতে আরও সক্রিয় অভিযান পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত আছেন, তাই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে তারও হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।