Published : 03 May 2026, 05:10 PM
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে এবার পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে চার দিনের রিমান্ডেও পাঠিয়েছে আদালত।
রোববার ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো ও রিমান্ডের আদেশ আসে।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গেল ৯ এপ্রিল মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের ঘটনায় নিউ মার্কেট থানার মামলায় তিন দফায় ১২ দিনের রিমান্ড নেয়া হয়। ২২ এপ্রিল রমনা মডেল থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাকে পাঁচ দিন এবং ২৬ এপ্রিল চার দিন এবং ৩০ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
তিন দফায় ১২ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর ঢাকার আদাবরে রুবেল হত্যা মামলা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ টিপু সুলতান।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে প্রথমে গ্রেপ্তার দেখানো বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
এরপর আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে রিমান্ড বিষয়ে শুনানি হয়। মাঞ্জিল হায়দারের পক্ষে তার আইনজীবী কামাল হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে।
শুনানি নিয়ে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সরকার পতনের দিন রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা বেলা ১১ টার দিকে আদাবরের রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে।
“এসময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়। কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
এ ঘটনায় গত বছরে ২২ অগাস্টে আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।