Published : 09 Jul 2026, 08:23 PM
কক্সবাজারের ডুলাহাজারায় সরকারের এক কর্মসূচিতে সাত লাখ গাছ লাগানোর কথা বলে দুই লাখ গাছ লাগানোর বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এটা দুঃখজনক।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে আপনারা খবরে দেখেছেন, কক্সবাজারে একটি ট্রেন লাইন গিয়েছে চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী ডুলাহাজারা হয়ে। ওই ডুলাহাজারাতে প্রায় কয়েক লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এই ট্রেন লাইনটা নিতে গিয়ে। আমরা চেষ্টা করছি, এগুলোকে রিপ্লেস করতে। যদিও সরকারি হিসাব নিকাশে বলা হয়েছে, সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে।
“কিন্তু সংশ্লিষ্ট যারা গাছ লাগিয়েছেন, আমি তাদের কাছে রিপোর্টটা নিয়েছিলাম সপ্তাহ দুই-তিন আগে। তাদের বললাম, আপনাদের রিপোর্টটা দেন দেখি কোথায় কোথায় সাত লাখ গাছ আপনারা রোপণ করেছেন।
“পরে আমি আমার মত করে ভেরিফাই করেছি, চেক করেছি এবং দেখেছি যে আসলে ওখানে সাত লাখ গাছ নেই। বড় জোর ওখানে দুই লাখের মত গাছ হবে, যেটি খুব দুঃখজনক। আমার মনে হয়, এই বিষয়গুলোর প্রতি বোধহয় আমাদের নজর দেওয়া প্রয়োজন।”
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখছিলেন।
এ সময় সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিগুলোতে ‘স্বচ্ছতা নিশ্চিত’ করতে তাগিদ দেন তিনি।
বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনের প্রতিও প্রধানমন্ত্রী সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, “আজ আমরা এখানে পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে এসেছি। আমার মনে হয় এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলের বোধহয় চিন্তা করার সময় চলে এসেছে।
“এখানে আজকে আমরা যারা বৃক্ষরোপণই হোক বা পরিবেশের বিষয় হোক একত্রিত হয়েছি, আমাদের সবার উচিত হবে, ঘর থেকে বেরিয়ে যে পরিস্থিতিতে, যে পরিবেশে সুযোগ হয়, প্রত্যেকটি মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করা।”
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম।
বক্তৃতা পর্ব শেষ হওয়ার পর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পূর্ব পাশে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।