Published : 09 Jul 2026, 06:33 PM
লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশে আরো দুয়েক দিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এই বৃষ্টির প্রভাবে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস হতে পারে বলেও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ও লঘুচাপের প্রভাবে আগামী এক থেকে দুই দিন পুরো দেশেই ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।"
পাহাড় ধসের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "অতি ভারি বৃষ্টি হলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা থাকে। গত দুই-তিন দিন ধরেই সেখানে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে মাটি অনেকটাই আলগা হয়ে গেছে। এরপর মানুষের চলাফেরা ও প্রাকৃতিক নানা কারণে কিছু কিছু জায়গায় ভূমিধস ঘটতে পারে।"
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরের সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের উত্তর-পশ্চিম ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে এরপর উত্তর-পূর্ব দিকে এগোতে পারে।
এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপে তারতম্য তৈরি হয়েছে। ফলে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে গত পাঁচ দিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে, ১৯ জন।
এছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ৫ জন করে এবং রাঙ্গামাটি জেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য এই পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৪২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।