ভারত সীমান্তে শান্তি বজায়ে ‘গঠনমূলক আলোচনার’ কথা বলল বাংলাদেশ
কাঁচা গম ও গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে হাতাহাতি, সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ‘দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী গঠনমূলক আলোচনার’ মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছে বাংলাদেশ সরকার।
সোমবার বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।”
কাঁচা গম ও গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে শনিবার বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকদের মধ্যে হাতাহাতি, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত তিনজন বাংলাদেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এরপর দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও উত্তেজনার রেশ থেকে যায় রোববারও।
শনিবার দুপুর থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা এবং কিরণগঞ্জ বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির মাঝামাঝি সীমান্তবর্তী মাঠে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন শিবগঞ্জ থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া।
পরে বিকাল ৪টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। সেখানে বিএসএফ দুঃখ প্রকাশ করে ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেয় বলে জানান বিজিবি-৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে সীমান্তবর্তী বিশ্বনাথপুর গ্রামের সুমন রেজা নামে এক যুবক সাংবাদিকদের বলেছিলে , দুপুরে কিরণগঞ্জ বউবাজার এলাকার সীমান্তের ওপারে মাঠের জমি থেকে বাংলাদেশিরা কাঁচা গম কেটে নিয়েছে এই অভিযোগ তুলেন ভারতের নাগরিকরা। এরপর ভারতীয়রা বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকে সীমান্তবর্তী মাঠের ৫-৭ বছর বয়সী বেশ কয়েকটি আম গাছ কেটে ফেলে।
এ ঘটনা জানাজানি হলে বাংলাদেশ সীমান্তের শত শত মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। অপরদিকে কয়েক হাজার ভারতীয়ও সীমান্তে অবস্থান নেয়।
সুমন রেজা বলেন, “এ সময় ভারতীয়রা পাথর নিক্ষেপ করে, হাসুয়া ছুড়ে মারে, হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। দুই দেশের মানুষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সীমান্তবর্তী দুই দেশের মানুষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।”
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রোববার সকালেও কিরণগঞ্জ ও চৌকা সীমান্তের মধ্যবর্তী কালীগঞ্জ মৌজায় উৎসুক জনতা ভিড় করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন। সোমবার থেকে কৃষক সেখানে কাজে ফিরলেও সংখ্যা ছিল খুবই কম।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমরা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থার কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছি।”
