১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের আগে বাংলাদেশের ‘কিছু ঘটনাও’ স্মরণ করতে বলল ভারত

“এ সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশে কী কী ঘটেছে, আমি সেগুলোতেও নজর দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই”, বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সওয়াল।

ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের আগে বাংলাদেশের ‘কিছু ঘটনাও’ স্মরণ করতে বলল ভারত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Apr 2025, 02:32 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:32 PM

ভারতের বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানির ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের পেছনে ‘ঢাকার কিছু ঘটনারও’ প্রভাব থাকার কথা বলেছে নয়াদিল্লি।

বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোতে যে যানজট, সেটার কারণে আমরা ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

“কিন্তু এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার আগে বাংলাদেশে কী কী ঘটেছে, সেগুলোর দিকেও আমি আপনাদের নজর দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, এক সাংবাদিক দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। কিন্তু বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা সিদ্ধান্তের কথা তিনি বলেননি।

এর আগে গত সপ্তাহে ইনডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হয়, ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ‘চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্প্রসারণে বাংলাদেশের সমর্থনের অভিপ্রায়’ প্রকাশের প্রেক্ষিতে ভারত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

এনবিআর গত মঙ্গলবার ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির সুযোগ বন্ধ করে দেয়। ফাইল ছবি

এনবিআর গত মঙ্গলবার ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির সুযোগ বন্ধ করে দেয়। ফাইল ছবি

গত ২৮ মার্চ বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে গিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস বেইজিংয়ে চীনা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “ভারতের সাত রাজ্য, ভারতের পূর্বাঞ্চলে, যেগুলোকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়ে থাকে… ভারতের ভূবেষ্টিত অঞ্চল। সমুদ্রে যাওয়ার কোনো উপায় তাদের নেই। এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক আমরা।”

এর মধ্যে গত ৮ এপ্রিল ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডিরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস (সিবিআইসি) এক সার্কুলারে দেশটির বন্দর বা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করার কথা জানায়।

ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক অন্য দেশে রপ্তানির বিষয়টিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পরের দিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, “বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পণ্যজট সৃষ্টি হচ্ছিল। এই কারণে আমাদের নিজস্ব রপ্তানিতে বিলম্ব, খরচ বৃদ্ধি এবং ব্যাকলগ তৈরি হচ্ছিল। ফলে এই সুবিধা ৮ এপ্রিল ২০২৫ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।"

তবে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল সিদ্ধান্ত নেপাল বা ভুটানগামী বাংলাদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত মঙ্গলবার ভারত থেকে বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির সুযোগ বন্ধ করে দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার এ সিদ্ধান্তের বিষয়েও নয়া দিল্লির প্রতিক্রিয়া জানতে চান ওই সাংবাদিক।

জয়সওয়াল অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। 

তবে ভারতীয় ‘এক কর্মকর্তার’ বরাতে হিন্দুর খবরে বলা হয়, “নয়া দিল্লি মনে করে পাকিস্তান থেকে আমদানির বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতেই ঢাকা স্থলপথে সুতা আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে এক ধরনের টানাপোড়েন চলছে।

বিচারের জন্য শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে এনেছে ইউনূস সরকার।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করল ভারত

ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় 'সমস্যা দেখছেন না' বাণিজ্য

ভারতের বন্দর ব্যবহার বন্ধ: রপ্তানিতে প্রভাব কতটা? বিকল্প কী

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের কী হাল?