Published : 09 Jul 2026, 06:56 PM
চাকরি নিয়ে রাশিয়ায় যাওয়া ৩০ বাংলাদেশিকে জোর করে ইউক্রেইন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ এসেছে, তাদের চারজনের মৃত্যুর তথ্য জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-বিএমইটির ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশি কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠায়।
ওই তিন এজেন্সির আরএল নম্বর ১৪৫৫, ১৪২৮ ও ২৫০৫ বলে সংসদে জানান তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই কর্মীদের জোর করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ক্যাম্প থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর সরকার ব্যবস্থা নেয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মীদের উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৩০ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাকি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশা করছে সরকার।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১৮৬ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন নারী এবং ৮ জন শিশু।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন।
দেশভিত্তিক হিসাবে লেবাননে ৫ জন, সৌদি আরবে ৩ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২ জন এবং ইরাক ও বাহরাইনে একজন করে বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে একজনের লাশ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়েছে এবং ৯ জনের লাশ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। বাকি দুজনের বিষয়ে মন্ত্রীর জবাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
যাদের লাশ দেশে আনা হয়েছে, তাদের পরিবারকে দাফন বাবদ বিমানবন্দর থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।
মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদার প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য গত এপ্রিল মাসে দেশটির উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আশা করা যায়, অতিদ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণের পথ সুগম হবে।”
চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নানের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বিরাজ করায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগসহ থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে ওই দেশগুলোর চাহিদা নিরূপণ করে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল গফুরের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিএমইটির সার্ভারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ১ কোটি ৯ লাখ ১৮ হাজার ৯ জন বাংলাদেশি চাকরি নিয়ে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গেছেন।
তবে চাকরি শেষে তাদের একটি বড় অংশ দেশে ফিরে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশফেরত এসব কর্মীর তথ্য না থাকায় বর্তমানে কর্মরত কর্মীর সঠিক সংখ্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ফেরত আসা কর্মীদের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সঙ্গে বিএমইটির একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে তথ্য দেন মন্ত্রী।
প্রশ্নোত্তরে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক শ্রমবাজার সুসংহত, সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি দক্ষ কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ মোট ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি কর্মসংস্থানমুখী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রেড কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়ার তথ্য দেন তিনি।
প্রবাসী কর্মীদের সহায়তায় বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে লাগেজ, কাগজপত্র, ফটোকপি, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সহায়তা, ফ্রি ওয়াইফাই, টেলিফোন সুবিধা এবং প্রবাসী ক্যাফেতে ছাড়ের ব্যবস্থার কথাও সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী।
সরাসরি ধান-গম কিনছে সরকার, ভুট্টা নয়
গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল করিমের প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বলেন, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও গম কিনছে, তবে ভুট্টা কিনছে না।
চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫ জুলাই পর্যন্ত ২ লাখ ৯২ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন ধান, ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৫৭ হাজার ৯৯ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫২৩ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে।
আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে বলে জানান খাদ্য প্রতিমন্ত্রী।
পুরনো খবর
চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠিয়ে পরে যুদ্ধক্ষেত্রে: ৩ এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত
রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করা কিশোরগঞ্জের যুবকের ড্রোন হামলায় নিহতের খবর