Published : 21 Jul 2025, 06:56 PM
ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভেতরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায়, পরিচয় শনাক্ত হওয়া মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
আর যাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যাবে না, তাদের মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করে, পরবর্তীতে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
সোমবার এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার সদর দপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা নির্বিঘ্নে চালিয়ে নিতে হাসপাতাল এলাকায় অহেতুক ভিড় না করার জন্য জনসাধারণকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে; আহত ও দগ্ধ হয়েছে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী।
আহতদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালেও আহতদের নেওয়া হয়েছে।
ঘটনায় এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানিয়েছে, শোক পালনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দেশের সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
পাশাপাশি সকল সরকারি, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশি মিশনেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। হতাহতদের জন্য দেশের সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর একটি ‘এফ-৭ বিজিআই’ প্রশিক্ষণ বিমান সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়।
বিমানটি ওই স্কুলের একটি অ্যাকাডেমিক ভবনের গেইটে আছড়ে পড়ে এবং তাতে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট।
আইএসপিআর বলছে, দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে বিমান বাহিনী একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে।