শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
তার স্ত্রী-সন্তানকেও সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস দেবে কমিশন।
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বিরুদ্ধে ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
এ ছাড়া অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার স্ত্রী-সন্তানদের সম্পদ বিবরণী দাখিলে নোটিস জারির অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
রোববার দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়েছেন।
গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এ সাংসদ ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
গত বছর ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার বনানীতে আওয়ামী লীগের এই নেতার বাসায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ ও বিভিন্ন টেন্ডার কাজে ‘অনিয়মের মাধ্যমে কমিশন গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগ অনুসন্ধান করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান টিমের নেতৃত্ব দেন উপপরিচালক মো. খায়রুল হক। টিমের অন্য সদস্যরা ছিলেন সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার ও উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মদ অনি।
অনুসন্ধানের বরাতে দুদক বলছে, শেখ সেলিম জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখেছেন।
এ অভিযোগে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুদক বলছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার টেন্ডার কাজে পছন্দের ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেওয়ার বিপরীতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে।
এছাড়া দুদক তার স্ত্রী ফাতেমা সেলিম, ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম ও শেখ ফজলে নাঈম এবং মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার সম্পদ অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।
তাদের প্রত্যেককে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস জারির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুদকের মহাপরিচালক বলেন, সম্পদ বিবরণী পাওয়ার পর তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগের খবর:
