Published : 13 May 2026, 07:33 PM
রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকায় ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ১৯ লাখ টাকা ছিনতাই এবং কয়েকজনকে কুপিয়ে আহতের অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার এক প্রকৌশলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আগের দিন র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান সাব্বির মিয়ার জামিন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
এদিন রবু মিয়া নামে আরেক আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোয়াজ্জেম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব-১০ নতুন জুরাইনের আলমবাগ এলাকা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই জহিরুল ইসলাম।
আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক শুনানিতে বলেন, হয়রানি করার জন্য তার মক্কেলকে মামলায় জড়িত করা হয়েছে। জামিন দিলে আসামি পালিয়ে যাবে না।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক জামিনের বিরোধীতা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শুনানির সময় তিনি জামিনের বিরোধিতা করেছেন। আদালতকে বলেছেন, আসামি আসাদুজ্জামান ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের ভাগ্নে।
“দল-বল নিয়ে প্রভাব বিস্তার করার জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বাদীর ১৯ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়েছে। টাকাগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি। তাকে জামিন দিলে টাকা উদ্ধার হবে না। তাকে কারাগারে আটক রাখা হোক।”
শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে আসাদুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এদিকে রবু মিয়া নামে আরেক আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তার পক্ষে খান মো. ইব্রাহিম জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
কদমতলীর ‘ঢাকা ম্যাচ’ রেললাইন সংলগ্ন বাজারে গত ৬ মে বিকালে ছিনতাইয়ের এ ঘটনার অভিযোগ করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. হাসান প্রাইভেটকারে করে যাওয়ার সময় মামলার আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের পথ রোধ করে। দেশি ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এসময় হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের গাড়ি থেকে টেনে বের করে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, ফাঁকা গুলি করে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, হামলায় মো. হাসান, রনি, মোতালেব ও নয়নসহ অন্তত ৫ থেকে ৭ জন ‘গুরুতর’ আহত হন। এসময় হামলাকারীরা গাড়িতে থাকা ১৯ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাসান ৭ মে কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।