Published : 20 Sep 2025, 09:57 PM
এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কারণে রাজধানীর পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল জলাধার ‘ধ্বংস’ হচ্ছে দাবি করে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন।
সংগঠনটির অভিযোগ, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন সংগঠনটির তরফে এসব অভিযোগ তোলা হয়। পরে সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর পরিবেশ সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ প্ল্যাটফর্ম-বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়কসহ নয়জন নাগরিক পান্থকুঞ্জ ও হাতিরঝিলে চলমান এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ বন্ধে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন।
এতে আদালত পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল জলাধারের উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে তিন মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেয় বলে রুলে বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, পান্থকুঞ্জ পার্কে ও হাতিরঝিল জলাধারে নির্মাণকাজ পরিচালনা করার জন্য কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। পুরো প্রকল্পের যে পরিবেশ ছাড়পত্র, সেটারও মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে।
“এতদিন ধরে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগের কারণে হাতিরঝিল জলাধার ও পান্থকুঞ্জ পার্ক এর পরিবেশ ইতিমধ্যেই ধ্বংসের পাশাপাশি কাঁঠালবাগান-কাটাবন-নীলক্ষেতসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিবহন ব্যবস্থা সীমাহীন সংকটে পড়বে।”
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, “২০১১ সাল থেকে চলমান এই প্রকল্প বছর বছর নবায়ন করার মাধ্যমে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। রেলওয়ের ১২৮ একর জমি বিনামূল্যে প্রকল্পের জন্য ছেড়ে দিয়ে যে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করা হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন বক্তব্য সরকারের কাছে পাওয়া যায়নি।”
নানান রাজনৈতিক সরকারের আমলে সুবিধা আদায়ের জন্য এই ধরনের প্রকল্প চলমান রাখা হলেও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বৈষম্যমূলক চুক্তি বজায় রেখে কেন এই প্রকল্প চলমান রাখছে সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা ও পান্থকুঞ্জ প্রভাতী সংঘের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুদ্দিন তুহিন বলেন, “এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার পর থেকে এলাকায় জলাবদ্ধতা বেড়ে গেছে। একই সাথে এলাকার মানুষের এক মাত্র খোলা জায়গা পান্থকুঞ্জ পার্ক বন্ধ রেখে এলাকার বয়স্ক মানুষদের যেমন হাঁটার জায়গা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে, তেমনি বাচ্চাদেরও একমাত্র খেলার জায়গা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “নকশা বহির্ভূতভাবে নেয়া এই র্যাম্প শুধু কোম্পানির মুনাফার জন্য যুক্ত করা হয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মত একটি স্থাপনা যা শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি মালিকদের কাজে আসবে, তা এ ধরনের জনবহুল এলাকায় প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস করে নেয়া একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত এবং তা অত্র এলাকার বাসযোগ্যতা আরও কমিয়ে আনবে।”
সর্বজনকথার সম্পাদক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করা অন্তর্বর্তী সরকারও বিগত সরকারের পথেই হাঁটছে। বর্তমান উপদেষ্টারাও আগের সরকারের মন্ত্রী-আমলাদের সুরে কথা বলা শুরু করেছেন এবং গত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের পক্ষে যুক্তি দেয়া শুরু করেছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক শায়ের গফুর, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, প্রাণ প্রকৃতি বিষয়ক লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজিব ও নাঈম উল হাসান।
আরও পড়ুন
পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল অংশে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে নিষেধা