Published : 10 Aug 2025, 04:36 PM
অসুস্থ মাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেরি হওয়ায়, পরীক্ষা দিতে না পারা এইচএসসির ওই শিক্ষার্থী আদৌ ওই পরীক্ষাটিতে বসার সুযোগ পাবেন কী না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্তে আসেনি শিক্ষা প্রশাসন।
শিক্ষা বোর্ড বলছে, চলতি বছর না পারলেও আগামী বছর এইচএসসির বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ‘অনিয়মিত পরীক্ষার্থী’ হিসেবে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী আনিসা আহমেদ পরীক্ষা দিতে পারবেন।
আর এবারেও বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ৬৬ এর বেশি নম্বর পেলে দুই পত্রেই পাস করে যাবেন তিনি।
এছাড়া কেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছানোর জন্য আনিসা যে কারণ দেখিয়েছিলেন, সেটি নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। আনিসার ‘মায়ের অসুস্থতার কারণ’ খতিয়ে দেখছে দুইটি তদন্ত দল।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির রোববার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আনিসা বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা আবার নেওয়ার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত আমরা এখনও পাইনি। একাধিক তদন্ত দল গঠন করে তার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নেন তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।”
গত ২৬ জুন এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে আনিসা এক ঘণ্টা দেরিতে সরকারি মিরপুর বাঙলা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছান। ফলে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাননি তিনি।
আনিসার পরীক্ষা দিতে না পারার ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে আসে। মেয়েটির কান্নায় ভেঙে পড়ার ছবিসহ খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সোশাল মিডিয়াতেও।
এই নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে সে সময় শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছিলেন, ওই শিক্ষার্থীর বিষয়টি ‘মানবিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে’।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, "কেউ কোনো পাবলিক পরীক্ষা মিস করলে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেওয়ার নজির নেই। আমাদের কোনো আইন বা বিধানেও সে সুযোগ নেই। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্বাহী আদেশে যে সিদ্ধান্ত নেবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বোর্ড।"
ওই ছাত্রীর শিক্ষা জীবনের কি হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, "বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে না পারলেও তিনি বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা দিয়েছেন। সে পরীক্ষায় উনি ৬৬ পেলে দুই পত্রে পাস করবেন। সেটি যদি না পান তাহলে আগামী বছর তিনি অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসাবে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় বসতে পারবেন।"
‘স্ট্রোক করা মাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার কারণে' যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি বলে আনিসা যে দাবি করেছিলেন, তা তদন্তে দুইটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বোর্ড ও সরকারি মিরপুর বাঙলা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র।
ওই দুইটি তদন্ত দল তদারকির দায়িত্বে থাকা ঢাকা বোর্ডের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমাদের তদন্ত দলগুলো জানতে পেরেছে আনিসা যে মায়ের অসুস্থতার দাবি করেছেন তা সঠিক নয়। তার মা প্রথম পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের গেটে তার সঙ্গেই ছিলেন। তিনি নিজেকে খালা বলে পরিচয় দিয়েছেন। আনিসা মনে করেছিলেন পরীক্ষা দুপুর দুইটায়, কিন্তু পরে যখন জানতে পারেন পরীক্ষা সকাল দশটায়, তখন অনেকটা দেরি হয়ে গেছে।
"ওই ছাত্রী যেন অন্যান্য পরীক্ষাগুলো ঠিকভাবে দিতে পারেন তা নিশ্চিত করতে আমরা এ বিষয়টি প্রকাশ করিনি। কারণ এবার তিনি অন্যান্য বিষয়ে পরীক্ষাগুলো ভালোভাবে দিলে আগামী বছর এক বিষয়ের দুই পত্রের পরীক্ষায় বসতে পারবেন।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. আসাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ওই ছাত্রী ও তার মায়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তার মা ওইদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন দাবি করে তারা আমাদের একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখিয়েছেন। ওটার কপি আমরা বোর্ডে পাঠিয়েছি।”
ওই মেডিকেল সার্টিফিকেটের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশি তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “ঢাকা বোর্ড ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দুইটি তদন্ত দল করেছেন। তারা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে বোর্ডে জমা দিয়েছেন। শুধুমাত্র ওই ছাত্রীর একটি পরীক্ষা নতুন করে নেওয়া হবে কি, না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড।"
আরও পড়ুন