Published : 30 Mar 2026, 05:21 PM
আইনিভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে করা মামলায় সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেনের স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি।
সোমবার দুপুরে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন তামিমা। আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান তিনি।
তামিমা আদালতে বলেন, “২০১৫ সালের জুলাই মাসে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সে বিমানবালা হিসেবে চাকরি শুরু করি। নাসির হোসেন তাকে কোনোভাবে প্রলুব্ধ করেননি। নাসিরের সঙ্গে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক হয়নি।”
তিনি বলেন, “২০১৬ সালে ২৩ ডিসেম্বর মামলার বাদী রাকিব হোসেনকে তালাক দেই। তালাকের পরে বাদীর সঙ্গে কোনো যৌন সম্পর্ক হয়নি। বাদীকে তালাকের ৫ বছর পরে নাসিরের সঙ্গে বিয়ে হয়। তালাকের নোটিশ ও কাবিননামার ঠিকানা একই। তালাকের পরে বাদীর বাড়িতে যাইনি।”
আদালতে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন তামিমা। সাক্ষ্য শেষ হলে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান তামিমাকে জেরা করেন। সেই জেরা এখনো শেষ হয়নি। বাকি জেরার জন্য আগামী ৮ এপ্রিল তারিখ রেখেছেন বিচারক। সেদিন নাসিরেরও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ হবে।
মামলায় বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও বাদী রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলা অবস্থাতেই ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেন বিয়ে করেন।
২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসিরের বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রাকিব মামলাট করেন। সে বছর ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান।
২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন তাদের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু।
অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুটো আবেদনই আদালতে নাকচ হয়ে যায়। ফলে নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে মামলা চলতে আইনি বাধা কাটে। সে বছর ২০ মার্চ বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।
২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। গত ১০ মার্চ মামলাটিতে আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। শুনানিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
আরও পড়ুন-
ক্রিকেটার নাসির-তামিমার মামলায় সাক্ষ্য শেষ, আত্মপক্ষ সমর্থন ২৮ এপ্রিল
নাসির-তামিমার মামলা: আসামি ও বাদীপক্ষের পাল্টাপাল্টি আবেদন, আদালত ‘বিব্রত’