Published : 02 Apr 2026, 06:36 PM
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে ‘অস্বাভাবিক মূল্যে’ বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হয়েছিল তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, চুক্তিটি সংশোধন কিংবা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টি এখন সরকারের ‘সক্রিয়’ বিবেচনায় আছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
এদিন বিকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন বসে।
অধিবেশনের সপ্তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি পর্যালোচনায় একটি জাতীয় কমিটি কাজ করেছে। সেই কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় ‘অস্বাভাবিক’ মূল্যে করা হয়েছিল।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “ওই প্রতিবেদনের আলোকে চুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়া অথবা আদানি পাওয়ারের সাথে আলোচনা করে চুক্তি সংশোধন ইত্যাদি বিষয়সমূহ সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।”
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আদানি পাওয়ারের ২৫ বছরের বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি হয় ২০১৭ সালের নভেম্বরে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই চুক্তির মূল্য, বকেয়া পরিশোধ ও সরবরাহ নিয়ে টানাপড়েন সামনে এসেছে।
‘বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই’
ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই।”
তবে গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে উৎপাদনে প্রাথমিক ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝড়বৃষ্টির কারণে মাঝেমধ্যে বিভ্রাট হওয়ার কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে এবং চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।”
কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপির রেজা আহাম্মদের প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট।
ফেনী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির অধীনে ১ হাজার ৮৩৪টি উপকেন্দ্র আছে। আরও ১৩৯টি নতুন উপকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলছে।
তিনি বলেন, গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট; আর চাহিদার ভিত্তিতে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
‘আবাসিক গ্যাস সংযোগে নতুন পরিকল্পনা নেই’
গ্যাস সংযোগ নিয়ে ঢাকা-৫ আসনের বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশে নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন ক্রমেই কমছে; আমদানিকৃত এলএনজিসহ মোট সরবরাহও সার্বিক চাহিদার তুলনায় কম। ফলে দেশে উল্লেখযোগ্য গ্যাস ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “এ কারণে বর্তমানে ও ভবিষ্যতে আবাসিক গ্যাস সংযোগের কোন পরিকল্পনা নেই।”
নোয়াখালী-১ আসনের এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি শ্রেণিতে নতুন গ্যাস সংযোগ স্থগিত রয়েছে। তবে শর্তসাপেক্ষে শিল্প ও ক্যাপটিভ খাতে নতুন সংযোগ চালু আছে।
জামালপুর-২ আসনের সদস্য এ সুলতান মাহমুদ বাবুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম চলছে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী এক বছরে ১১টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পেট্রোবাংলার মহাপরিকল্পনার আওতায় সব কূপ খননকাজ সফলভাবে শেষ হলে আনুমানিক ১ হাজার ৫৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।