Published : 21 Apr 2026, 08:55 PM
জুলাই আন্দোলনে সে সময়কার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ফোন করে ইন্টারনেট বন্ধ করতে বলেছিলেন বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা কামাল আহমেদ।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ কথা বলেন। কামাল আহমেদ বর্তমানে বিটিসিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের (ডিএমডি) দায়িত্বে রয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
কামাল আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাত ৮টার দিকে সাবমেরিন কেবল কোম্পানির কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহাব তাকে মোবাইলে ফোন করে বলেন, বিটিআরসি সাবমেরিন কেবল লেভেলে কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় সাবমেরিন ব্যান্ডউইডথ শাটডাউনের নির্দেশনা দিয়েছে।
কামাল বলেন, তার জানামতে সাবমেরিন লেভেলে কখনো ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়নি, ফলে নির্দেশনাটি শুনে তিনি ‘হকচকিত হন’।
তার কথায়, “একই দিন রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান তাকে ফোন করেন এবং সাবমেরিন লেভেল ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশনা দেন। এরপর রাত ৯টার দিকে জুনাইদ আহমেদ পলক আমাকে ফোন করেন এবং বিটিআরসির নির্দেশনা কেন প্রতিপালন করছি না, তা জানতে চান।
“তিনি (পলক) সাবমেরিন লেভেলে ইন্টারনেট বন্ধ করতে কত সময় লাগতে পারে তা জিজ্ঞেস করেন। আমি তখন বলি আনুমানিক ১৫ মিনিট লাগবে। তিনি আমাকে ইন্টারনেট বন্ধ করে কনফার্ম করতে বলেন। তারপর আমি আমার অধীন জেনারেল ম্যানেজার অপারেশনসের মাধ্যমে কক্সবাজার এবং কুয়াকাটায় সাবমেরিন কেবল দুটি শাটডাউন করতে সরকারের সিদ্ধান্ত জানাই এবং ১৫ মিনিটের মধ্যেই সাবমেরিন দুটি শাটডাউন করা হয়।”
ইন্টারনেট বন্ধ করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগের এই মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৪ অগাস্ট। তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে।
রাষ্ট্রপক্ষ আহত, নিহতদের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী, প্রযুক্তি ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞসহ মোট ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে।
প্রসিকিউশনের আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রথমটিতে বলা হয়েছে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেইসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেন পলক, যার জেরে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও দলীয় সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ইন্টারনেট বন্ধ করে এ দুই আসামি মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেন এবং হত্যায় সহায়তা করেন। এর ফলে পুলিশ ও দলীয় বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জনের প্রাণ যায়।
তৃতীয় অভিযোগে উত্তরায় ৩৪ জন নিহতের ঘটনায় আসামিদের সহায়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
এ মামলায় পলক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং মঙ্গলবার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর জয়কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেয় আদালত। জয় পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনালে তার হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।