Published : 24 Jul 2025, 08:05 PM
জুলাই অভ্যুত্থানের আগে দেড় দশকে সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসীদের হাতে যারা নিহত হয়েছেন তাদের তালিকা করে প্রতিটি ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রায় ছয় বছর আগে পিটিয়ে হত্যা করা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা এই নির্দেশ দেন বলে তার দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এদিন বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আবরারের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ ও মামা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকালে আবরারের পরিবার চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে সংঘটিত দলীয় সন্ত্রাসের শিকার নিহতদের নামের তালিকা তৈরি করে সেসব ঘটনার বিচার ও তদন্তের দাবি জানান।
এ সময় আবরার হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণেরও অনুরোধ জানান তার বাবা।

বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট। ওই শিক্ষায়তনে নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেয় বিচারিক আদালত। আপিলের রায়েও তাদের সাজা বহাল রাখে হাই কোর্ট।
তাদের মধ্যে তিনজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। বাকি ২২ জনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুনতাসির আল জেমির কারাগার থেকে পালিয়েছেন।
বরকত উল্লাহ বলেন, “দেশের জন্য কথা বলার কারণে তাকে (আবরার) সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। সে দেশের স্বার্থে কথা বলেছিল, অসম পানি বন্টনের বিরুদ্ধে বলেছিল।
“তার মা এখনো ছেলের জন্য আর্তনাদ করেন। আর কোনো মায়ের যেন সন্তান হারানোর কষ্ট পেতে না হয়, আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারার ঘটনাটি পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হবেই। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনের দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহতের তালিকা করে প্রত্যেকটি ঘটনা তদন্ত করা হবে।
“এর পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেগুলো নিয়েও তদন্তকাজ চলছে। সরকার ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে।”
কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী বহুদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছেন তুলে ধরে বরকত উল্লাহ বলেন, সেতু না থাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। সেখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
আবরার ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শিক্ষার্থী-বান্ধব করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বুয়েটের তৃতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থী বান্ধব নয়। পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব, সরঞ্জাম ও অন্যান্য ব্যবস্থার সংকট রয়েছে।
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চাই এ সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থী বান্ধব করতে পদক্ষেপ নেবে।”
তিনি বুয়েটে র্যাগিং বন্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানান।
ফাইয়াজ বলেন, “বুয়েটে নিপীড়নের ঘটনা এটাই প্রথম না। আগেও ঘটেছে। আগে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোর তদন্ত ও বিচার করা প্রয়োজন।”
আরও পড়ুন
বুয়েটে হলের সিঁড়িতে শিক্ষার্থীর লাশ
আবরার হত্যা: ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন হাই কোর্টে বহাল