Published : 25 Sep 2025, 09:45 PM
ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিকে ‘ভালো’ মন্তব্য করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ পদ্ধতিতে নারীদের জন্য ১০০ আসন থাকবে বলে আশা করছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক গোলটেবিলে তিনি বলেন, “আমি অনেক তরুণের সঙ্গে কাজ করেছি ও করছি। ঐকমত্য কমিশনে নারীদের কথা আমি বলেছি। বিভিন্ন কারণে নারীরা প্রতিনিধিত্ব অবস্থানে আসতে পারে না।
“নারীরা আমাদের বোঝা নয়। তাদের ওপর আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে। আমরা নারীর আসন সংখ্যা বাড়াতে চাই। ১০০ আসন নারীদের জন্য হবে এবং এটি রোটেশন পদ্ধতিতে হবে। আমি মনে করি এটা একটা ভালো পদ্ধতি।”
ইস্কাটনে বিআইআইএসএস মিলনায়তনে ‘অন্তর্ভূক্তিমূলক রাজনীতি: নারী ও তরুণ নেতৃত্বের অভিযাত্রা’ শিরোনামে এ গোলটেবিল হয়। আয়োজক ছিলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
এতে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সদস্যরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান।
আলোচকরা দেশের রাজনীতিতে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণে বিরাজমান প্রতিবন্ধকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গড়ে তোলার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
জিল্লুর রহমান বলেন, “আন্দোলনের সময় যেসব নারী ও তরুণ মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন, তার মধ্যে কিছু তরুণ সামনে এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ বা মেয়েরা, যারা পুলিশের ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়েছিল, এই পরিবর্তন তাদেরকে শেষ পর্যন্ত হতাশ করেছেন বলে আমার মনে হয়।”
নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তি’ ও ’সংলাপ’ শব্দ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, সামনে এগিয়ে যেতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া অপরিহার্য। তবে এখানে বিষয়টি তরুণদের নিয়ে।
“তরুণদের কর্মসংস্থান বলতে আমরা কী বুঝি? কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যার কারণে তরুণরা আমাদের প্রত্যাশামতো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত বা সম্পৃক্ত হচ্ছে না?”
তিনি বলেন, “নারীদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলতে গেলে দেখা যায়, রাজনৈতিক কাঠামোতে নারীরা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি হয়রানির শিকার হন। সেক্ষেত্রে আমরা কোন কোন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারি? একইভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও প্রশ্ন ওঠে। তাই অন্তর্ভুক্তি আমার মতে প্রথম কিওয়ার্ড এবং দ্বিতীয়টি হলো সংলাপ।”
সংলাপে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ফাহিমা নাসরীন মুন্নী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সাবিকুন্নাহার মুন্নি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করিম মারুফ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানিয়া হক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান, রাশনা ইমাম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যকরী সদস্য হেমা চাকমা, বাংলাদেশ এলায়েন্স ফর উইমেন লিডারশিপের নির্বাহী পরিচালক নাসিম ফেরদৌস এবং এনডিমের মহাসচিব মমিনুল আমিন অংশ নেন।
সংলাপটি শেষ হয় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রগঠনের একটি ঘোষণায় সই করার মাধ্যমে, যেখানে এনসিপি ছাড়া অন্যরা অংশগ্রহণকারীরা নারী ও তরুণদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে অধিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে যৌথ নীতি ও ব্যক্তিগত অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।