Published : 06 Jun 2026, 01:51 PM
খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান নিয়ে মানুষের সংশয় দূর করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ‘জিলাপি খেয়ে আতঙ্কে ভোগা’ স্বাভাবিক দেশের চিত্র হতে পারে না।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই সদরদপ্তর ‘মান ভবনে’ বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতি বছর ২০ মে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস পালন করা হয়, এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য: ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’।
পণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে টেকসই হতে হলে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। আর সেই আস্থা গড়ে ওঠে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত পণ্যের মানের ওপর। খাদ্যপণ্য হোক বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় পণ্য, সেগুলো সঠিক মাপে, সঠিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হয়েছে কি না এবং নির্ধারিত মানদণ্ড বজায় রেখেছে কি না, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এ প্রসঙ্গ ধরে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “জিলাপি খাওয়ার সময়, আপনি যদি এক কামড় জিলাপি খান, আর সাথে আতঙ্কে ভোগেন, এটার মধ্যে ‘হাইড্রোজ’ আছে না কি; এটা তো একটা সুস্থ স্বাভাবিক দেশের (অবস্থা) হতে পারে না।”
বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে পণ্যের মান তদারকিতে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান জনবল অপ্রতুল তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দেবে এবং একটি কার্যকর জনবল কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের মডেল পর্যালোচনা করে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী তা পুনর্গঠন করা হবে।
বিএসটিআইয়ের ল্যাবের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সকল পরিমাপের সঠিকতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েটস অ্যান্ড মেজারস-বিআইপিএম’ বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। বিএসটিআইয়ের ন্যাশনাল মেট্রোলজি ল্যাবরেটরির একটি ল্যাব সম্প্রতি বিআইপিএম এর স্বীকৃতি অর্জন করেছে এবং তাদের ‘কি কম্পারিজন ডেটাবেজে’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটিকে দেশের জন্য ‘বড় স্বীকৃতি’ বলে অভিহিত করেন বাণিজ্যমন্ত্র।
আলোচনা সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, বিএসটিআইয়ের জনবল সংকট নিরসনে নতুন জনবল কাঠামোর প্রস্তাব ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার জন্য আবারও উপস্থাপন করা হয়েছে।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ও এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান, বিএসটিআই মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক এবং বিএসটিআইয়ের পরিচালক (মেট্রোলজি) মো. মাজাহারুল হক।