১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নদী উদ্ধারে না থাকলেও দখল-দূষণে ঐক্য আছে: আনু মুহাম্মদ

“সরকারগুলোর একটা একটা অভিন্ন প্রবণতা দেখি যে তারা সবসময় আন্তর্জাতিক কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Sep 2025, 07:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:22 PM

দেশের নদ-নদী উদ্ধারে জাতীয় ঐক্য না থাকলেও দখল বা দূষণে ঐক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানিক মিয়া মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, “একটা প্রশ্ন প্রায় উঠে আসে যে, যৌথ নদী কমিশন কেন কাজ করে না? শুধু যৌথ নদী কমিশন না, আমরা অনেক ক্ষেত্রেই দেখি আমাদের যেসব কমিটি বা কমিশন হয় অন্যান্য দেশের সঙ্গে কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে দর কষাকষি বা আলোচনার জন্য, সেইখানে আমাদের দিক থেকে প্রস্তুতি দক্ষতার বড় ধরনের ঘাটতি থাকে।

“আমাদের দেশে সরকারগুলোর একটা একটা অভিন্ন প্রবণতা দেখি যে, তারা সবসময় আন্তর্জাতিক কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে। নদী নিয়ে যে ডেলটা প্ল্যান হচ্ছে, সে ডেলটা প্ল্যান নেদারল্যান্ডের গোষ্ঠী এসে করছে।”

‘নোঙর বাংলাদেশ’ এর চেয়ারম্যান সুমন শামসের দুটি প্রকাশনা ‘আন্তঃসীমান্ত’ ও ‘নদী সংস্কৃতি’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন তিনি।

‘নোঙর বাংলাদেশ’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, অনুষ্ঠানে আনু মুহাম্মদ বলেন, “এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তারা বলছে যে ‘আমরা ক্ষমতা নেইনি, দায়িত্ব নিয়েছি’। সে দায়িত্ব নেওয়ার পর সবারই প্রত্যাশা ছিল যে কিছু পরিবর্তনের সূচনা হবে। নদীকে নিয়ে কাজ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব ছিল।

“সরকার প্রথম যেটা করতে পারত, নদী নিয়ে ইতোমধ্যে যারা এ দেশে কাজ করছেন, তাদের সবাইকে নিয়ে একটি নদী সংস্কার কমিটি তৈরি করা। দ্বিতীয় সহজ কাজ ছিল জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করা।

“ভারতের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন, যারা ফারাক্কা বাঁধের বিরোধিতা করেছিলেন এবং ভারতে বর্তমানে ফারাক্কা বাঁধ ভাঙ্গার দাবিও উঠছে। সুতরাং ভারতের জনগণের মধ্যে যারা এ ধরনের কথাবার্তা বলছেন বা চিন্তা করছেন-তাদের সঙ্গে আমাদের একটা যোগাযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।”

সভায় আন্তঃসীমান্ত নদী বিরোধ নিরসনে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, তিব্বত এবং চীনকে সংযুক্ত করে কার্যকর ও টেকসই পরিবেশবান্ধব একটি নীতিমালার ভিত্তিতে একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম গঠনের আহ্বান জানিয়েছে ‘নোঙর বাংলাদেশ’। 

সভায় নোঙর বাংলাদেশের তরফ থেকে ২৩ মে-কে ‘জাতীয় নদী দিবস’ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

নোঙরের ট্রাস্টি মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, নৌ-পরিবহন ও নদী বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী শরীফ জামিল, রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার, লেখক ও গবেষক হালিম দাদ খান, নদী গবেষক মিহির বিশ্বাস, আইরিন সুলতানা সভায় বক্তব্য দেন।