Published : 31 Jul 2025, 09:34 PM
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের ‘রায় জাল-জালিয়াতির’ অভিযোগে ঢাকার শাহবাগ থানায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আরও দুটি ধারা সংযোজনের আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই খালেক মিয়া ধারা সংযোজনের আবেদন করেন।
পরে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সাইফুজ্জামান আবেদনটি নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মাঈন উদ্দিন চৌধুরী এ তথ্য দিয়েছেন।
ধারা দুটি হল-বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১২০-বি, যা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ৪২০ যা প্রতারণা।
ধারা সংযোজনের আবেদনে বলা হয়েছে, এ বি এম খায়রুল হক বিচারক হিসেবে ‘লোভের বশবর্তী হয়ে দুর্নীতিমূলক ও বিদ্বেষাত্বক এবং বেআইনিভাবে রায় দেওয়াসহ অসত্য ও জাল জালিয়াতি’ করেছেন, এমন অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়েছে।
তদন্তকালে পাওয়া তথ্য ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় মামলাটি দায়েরের ধারাগুলোর পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১২০-বি ও ৪২০ ধারা সংযোজন করা প্রয়োজন মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে তখনকার প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়, যার ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।
গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন ঘটে।
তারপর ২৭ অগাস্ট ‘দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতির’ অভিযোগে শাহবাগ থানায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
মুজাহিদুল ইসলামের অভিযোগ, “বিচারপতি খায়রুল সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কথায় প্রভাবিত হয়ে অবসরপরবর্তী ভালো পদায়নের লোভে দুর্নীতিমূলকভাবে শেখ হাসিনাকে খুশি করার জন্য ২০১১ সালের ১০ মে সংক্ষিপ্ত আদেশটি পরিবর্তন করে বেআইনিভাবে ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।”
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ওই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী এম সলিম উল্লাহসহ কয়েকজন রিট আবেদন করেন। সেই মামলার শুনানি করে ২০০৪ সালে হাই কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।
রিট আবেদনকারী ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রায় দেয় আপিল বিভাগ। তখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন এ বি এম খায়রুল হক।
ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় প্রকাশ্য আদালতে ঘোষিত রায়ে সুপ্রিম কোর্ট দুই মেয়াদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পথ খোলা রেখেছিল। কিন্তু ওই বছর সেপ্টেম্বরে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের সময় ‘জালিয়াতি’ করা হয়।
২৪ জুলাই ঢাকার ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিন রাতেই জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২৯ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে ‘বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির’ অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় করা মামলায় তাকে ভার্চুয়ালি গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বিচারক হিসেবে ‘দুর্নীতি ও বিদ্বেষমূলকভাবে বেআইনি রায় প্রদানসহ জাল রায় তৈরির’ অভিযোগে শাহবাগ থানার মামলায় বুধবার খায়রুল হকের সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয় আদালত।
বৃহস্পতিবার আহাদ হত্যা মামলায় তার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন:
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ৭ দিনের রিমান্ডে