Published : 16 Jul 2025, 11:23 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি হওয়ার পর জেলার বৃহস্পতিবারের আলিম, এইচএসসি ভোকেশনাল, বিএম ও বিএমটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে অন্যান্য জেলায় এসব পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিমের ফিকহ্ প্রথম পত্রের পরীক্ষা রয়েছে। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ভোকেশনালের দ্বাদশ শ্রেণির ঐচ্ছিক বিষয় ও একাদশ শ্রেণির ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা রয়েছে।
একই দিন পরীক্ষা আছে ডিপ্লোমা ইন কমার্সের একাদশ শ্রেণির প্রডাকশন প্ল্যানিং কন্ট্রোল অ্যান্ড কস্টিং পরীক্ষা।
এইচএসসি বিএম-বিএমটির একাদশ শ্রেণিরও পরীক্ষা আছে। তাদের পরীক্ষার বিষয় কম্পিউটারাইজড একাউন্টিং সিস্টেম-১ ও প্রডাকশন প্ল্যানিং কন্ট্রোল অ্যান্ড কস্টিং।
আর দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা হবে কম্পিউটারাইজড একাউন্টিং সিস্টেম-২ ও উচ্চতর হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছ, “অনিবার্য কারণে গোপালগঞ্জ জেলার সব কেন্দ্রের ১৭ জুলাইয়ের আলিমের ফিকহ প্রথম পত্র পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। স্থগিত পরীক্ষার সূচি পরে জানানো হবে। দেশের অন্যান্য জেলায় ১৭ জুলাইয়ের আলিম পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে হবে।”
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণে চলমান ডিপ্লোমা ইন কমার্স, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল, এইচএসসি ভোকেশনাল ও এইচএসসি বিএমটিসহ বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ জেলায় সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
“এসব পরীক্ষা তারিখ পরে জানানো হবে। অন্যান্য জেলায় সব পরীক্ষা যথারীতি চলবে।”
এর আগে শুধু গোপালগঞ্জ জেলার বৃহস্পতিবারের এইচএসসির ভূগোল দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর এসেছে।
এনসিপির এই পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে মঙ্গলবার থেকেই গোপালগঞ্জ শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চলানো হয়।
বুধবার সকালে এনসিপি নেতারা গাড়িবহর নিয়ে শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
এসবের মধ্যে বেলা দেড়টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে এসে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে নেতারা পুলিশি নিরাপত্তায় টেকেহাট হয়ে মাদারীপুর যাওয়ার পথে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শহরের লঞ্চ ঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে ফের হামলা হয়।
এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এ পরিস্থিতিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে পুলিশ সুপার কার্যালয় ছাড়েন।
দুপুরে জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সন্ধ্যায় কারফিউ জারির ঘোষণা আসে।