Published : 10 Aug 2025, 07:57 PM
এবারের হালনাগাদ কার্যক্রমে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বাড়লেও নারীদের ভোটার হতে ‘অনীহা ও কুসংস্কার’ দূর করতে নারী সংগঠনগুলোর সহায়তা চেয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
রোববার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (কেআইবি) এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভোটারযোগ্য হলেও নারীদের অনেকে ভোটার হতে চান না, লজ্জা পান। এ কুসংস্কারের বিষয়ে সচেতন করতে নারী সংগঠনগুলোর ভূমিকা রাখতে হবে। আবার অনেকে ছবিও তুলতে চান না।
পাসপোর্টের জন্য ছবি তুললেও এনআইডি কিংবা ভোটার তালিকার জন্য কেন ছবি তুলতে পারবে না- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি এ বিষয়ে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই), ইউকেএইড এর অর্থায়নে বি-স্পেস প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত ‘ইলেকশন ক্যাম্পেইন ফান্ডিং (উইমেন ক্যান্ডিডেট) অর্ডিনেন্স’ বিষয়ে পলিসি ডায়লগ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন এই নির্বাচন কমিশনার।
রোববারই প্রায় ৪৬ লাখ বাদ পড়া ভোটারের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ লাখ ৭০ হাজার ২০৩ জন এবং নারী ভোটার ২৭ লাখ ৭৬২ জন ও হিজড়া ভোটার ২৫২ জন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল বলেন, ২০২০ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে নারী ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে পুরুষের চেয়ে কম হওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে।
“তৃণমূলে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এখনও কিছু লজ্জা কাজ করছে। ২০২০ সালে যে ব্যবধান ছিল ১১ লাখ, ২০২৫ সালের খসড়া তালিকায় তা প্রায় ৩০ লাখ (পুরুষের চেয়ে কম)।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ধারণা করা যায় তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক ভোটার তালিকাভুক্ত হননি। দেশেতো নারীদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কথা এবং ভোটার তালিকায় বেশি না হলেও নারী পুরুষ সমান সংখ্যক হওয়ার কথা।
এসব বিবেচনায় স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচারণার ফলে এবার হালনাগাদে বড় সংখ্যক নারী ভোটার পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন এই নির্বাচন কমিশনার।
তার ভাষ্য, “এবার প্রচারণার ফলে এ ব্যবধান ১২ লাখ কমে এসেছে। বর্তমানে এ ব্যবধান প্রায় ১৮ লাখ। আমরা ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছি।”
আবুল ফজল বলেন, আরও বেশ কিছু সংখ্যক নারী আছেন যারা এখনও তালিকাভুক্ত হননি। ১৮ বছর বয়স হলেও বিয়ে না হওয়ার আগে অনেক জায়গায় মেয়েরা তালিকাভুক্ত হতে চাননি। অনেকে চান শ্বশুর বাড়ি গিয়ে ভোটার হবে।
“কেউ কেউ বলেন, এমন কি ফেইস পর্যন্ত দেখাতে চান না, ছবি তুলতে চান না এবং ভোটার হতে চান না “
এমন ’সামাজিক কুসংস্কার’ থেকে বেরিয়ে আসতে নারী সংগঠনগুলোর সহায়তা চান তিনি।
‘ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের’
অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের বলে মন্তব্য করেন।
তার মতে, সবাই বুঝতে পারছে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলতে পারে। এটাই বর্তমানের চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে নির্বাচনকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টাও চলবে।
সরকারি তহবিল কাঠামোর প্রস্তাব
সংলাপের বিষয়ে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতে রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তী সরকার, তরুণ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংলাপে প্রস্তাবিত ‘ইলেকশন ক্যাম্পেইন ফান্ডিং (উইমেন ক্যান্ডিডেট) অর্ডিনেন্স’ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
একই সঙ্গে নারী প্রার্থীদের জন্য লিঙ্গ সংবেদনশীল সরকারি তহবিল কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মুখ্য পরিচালক মো. আব্দুল আলীম খসড়া অধ্যাদেশ উপস্থাপনা এবং এর প্রত্যাশিত প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ খসড়া অধ্যাদেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই সংলাপ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও জাতীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার সংস্কারে সব রাজনৈতিক দলের একসাথে এগিয়ে আসার অঙ্গীকারের বহি:প্রকাশ।”
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ক্যাথরিন সিসিল বলেন, “আন্তর্জাতিক গবেষণা থেকে দেখা যায় যে, সরকারি তহবিল নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। বর্তমানে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপট পুনর্গঠনের একটি যুগান্তকারী সুযোগ রয়েছে। সুতরাং সরকারি তহবিল নারীদের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।”
আরও পড়ুন: