১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ আমলের শিক্ষা ব্যবস্থা থাকছে না মাধ্যমিকে

ফিরবে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। মূল্যায়ন পদ্ধতি হবে অনেকটাই জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর মত।

আওয়ামী লীগ আমলের শিক্ষা ব্যবস্থা থাকছে না মাধ্যমিকে
চলতি বছর থেকে নতুন ধাঁচের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। আওয়ামী লীগের পতনে এক যুগ আগের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2024, 10:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:23 AM

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা ব্যবস্থাও আমূল পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। মাধ্যমিকে ফিরবে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। মূল্যায়ন পদ্ধতি অনেকটাই জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর মত হবে।

রোববার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব রহিমা আক্তার স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ কথা জানানো হয়।

নানা সমস্যার কারণে জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২২ বাস্তবায়নযোগ্য নয় দাবি করে এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের বাধা হিসেবে শিক্ষকদের প্রস্তুতির ঘাটতি, পাঠ্য বিষয়বস্তু ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে অস্পষ্টতা ও নেতিবাচক ধারণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করা হয়।

পাঠ্যক্রম সংশোধন ও পরিমার্জন করে ২০২৪ সাল থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে ও আগামী বছর থেকে পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আসবে বলেও জানানো হয় পরিপত্রে। 

মাধ্যমিকে ছয়টি করে বিষয়ভিত্তিক যে মূল্যায়ন কার্যক্রম অসম্পন্ন রয়েছে সেগুলো আর হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়েছে এতে। 

পরিপত্রে বলা হয় প্রাথমিক স্তরে প্রাক-প্রাথমিক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে ধারাবাহিকতা রেখে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করে মুদ্রণ করা হবে। পাঠদান পদ্ধতি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হবে। 

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে চলমান পাঠ্যবই ২০২৪ সালে বহাল থাকবে। ২০২৫ সালে যথাসম্ভব সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যবই সরবরাহ করা হবে। 

২০২৪ সালের বাকি সময়ে ও বার্ষিক পরীক্ষায় ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন সংশোধিত ও পরিমার্জিত পদ্ধতিতে করা হবে। সংশোধিত ও পরিমার্জনকৃত মূল্যায়ন রূপরেখার ভিত্তিতে ডিসেম্বর নাগাদ বার্ষিক পরীক্ষা হবে।

২০২৫ সালে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার লক্ষ্যে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা অব্যাহত রাখা হবে। তাদেরকে ২০১২ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রমের আলোকে সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যবই সরবরাহ করা হবে। 

সেই শিক্ষাক্রম অনুসারে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাভিত্তিক এই পাঠ্যবইগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি করা হবে। 

যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ সালে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে তাদেরকে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রণীত শাখা ও গুচ্ছভিত্তিক সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যবই (২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত) দেওয়া হবে। 

এ সব শিক্ষার্থী নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচি শেষে ২০২৭ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবে। 

শিক্ষাবিদ, শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষা প্রশাসক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ২০২৫ সালে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করা হবে, যা ২০২৬ সাল থেকে পরিপূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে।