Published : 17 Apr 2026, 07:02 PM
জ্বালানি সংকটের মধ্যে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে রীতিমতো ‘যুদ্ধ পরিস্থিতিতে’ পুলিশ সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন’।
তেল নিতে গিয়ে ফিলিং স্টেশনে পুলিশ সদস্যদের কর্মঘণ্টার বড় অংশ নষ্ট হচ্ছে দাবি করে সংগঠনটি বলছে, লাইনের বাইরে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা জনঅসন্তোষে পড়ছেন। এজন্য পাম্পগুলোতে আলাদা লাইন চাইছেন পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশের নন ক্যাডার কর্মকর্তা ও সদস্যদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের’ পক্ষ থেকে আইজিপির কাছে লেখা এক চিঠিতে এমন দাবি তোলা হয়েছে।
পুলিশের ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য সরকারি গাড়ি সুবিধা রয়েছে। তবে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের বড় একটা অংশ মোটরসাইকেল নির্ভর। দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে ১০-১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সব যানবাহন চালককে। ফলে এই পরিস্থিতির মধ্যে লাইন ভেঙে কেউ জ্বালানি নিতে গেলেই বাধার মুখে পড়ছেন। তাতে হট্টগোল থেকে মারামারি-ভাঙচুরও হচ্ছে।
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়, “দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, জরুরি অভিযান পরিচালনা, ভিআইপি নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন জনসেবা দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে পুলিশ।
“বাস্তব প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, সরকারি যানবাহন এবং রিকুইজিশন করা যানবাহন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জ্বালানি পাম্পে তেল সংগ্রহের জন্য পুলিশ সদস্যদেরকে সাধারণ জনগণের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ সদস্যদের মূল্যবান কর্মঘণ্টার একটি বড় অংশ পাম্পে অপেক্ষমাণ অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।”
লাইনের বাইরে গিয়ে তেল নিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন বলে লেখা হয়েছে সেই চিঠিতে।
আরও বলা হয়, “বিশেষ করে আসামি ধরতে অভিযান, জরুরি টহল, মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিতি, দুর্যোগ ও দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত সাড়া প্রদানসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সময়মত পালনে বিলম্ব ঘটছে।
“অনেক ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে লাইনের বাইরে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশ সদস্যরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, জনঅসন্তোষ এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানারও সম্মুখীন হচ্ছেন; যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।”
এসব কারণ দেখিয়ে পুলিশ সদস্যদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক লাইন বা বিশেষ বুথের মাধ্যমে তেল সরবরাহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।