১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এইচএসসি: ‘ভুল’ প্রশ্নে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা, বোর্ড বলছে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না

গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি বলেছে, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2026, 12:26 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্রে ‘ভুল’ ছিল বলে অভিযোগ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। 

সোমবার দেশের সাতটি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে এ পরীক্ষা হয়। তবে বৈরি আবহাওয়া ও বন্যার কারণে এ দিন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত ছিল। 

ঢাকার এক পরীক্ষার্থীর দাবি, “সৃজনশীল প্রশ্নের ৬ নম্বর এবং ৭ নম্বর দুটি প্রশ্ন সুনিশ্চিতভাবে ভুল। ছয় নম্বর প্রশ্নে অনুর ব্যাসার্ধ দেওয়া নাই। আপনি মনে করতে পারেন, অনুর ব্যাসার্ধ মুখস্ত বসাব। কিন্তু পৃথিবীর সব অনুর ব্যাসার্ধ সমান না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সাত নম্বর প্রশ্নে দুইটা ভেক্টর দিয়ে দিয়েছেন। দুইটা ভেক্টর দিয়ে দিলে এদের মধ্যবর্তী কোণ নির্দিষ্ট। আপনি এমন দুইটা ফ্যাক্ট দিয়েছেন যাদের মধ্যবর্তী কোণ ৬ ডিগ্রি। কিন্তু প্রশ্নে দিয়ে রেখেছেন ২৫ ডিগ্রি।”

পরীক্ষার্থীদের অনেকে প্রশ্ন কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। রাজধানীর বিসিআইসি কলেজের এক পরীক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষার একটা প্রশ্ন নিয়েও কেউ সন্তুষ্ট না। আমরা দুই বছর ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি; কিন্তু এ ধরনের প্রশ্ন কোথাও পাইনি।”

‘ভুল’ প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র প্রশ্নে ভুল আছে বলে আমরাও অভিযোগ শুনেছি। এ নিয়ে আমরা পদার্থবিজ্ঞানী ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করছি।

“প্রশ্নে যদি আসলেই ভুল থাকে তাহলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না। পরীক্ষার্থীরা ওই প্রশ্নের জন্য নম্বর পাবেন। আমরা খতিয়ে দেখছি প্রশ্নে ভুল ছিল কিনা।”

এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের মোর্চা আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে দিয়েছে।

এতে বলা হয়, “বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনায় যদি সংশ্লিষ্ট কোনো প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হয় তবে প্রচলিত পরীক্ষা মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হবে। তারা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে লক্ষ্যে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।”